যোগসাজশে ক্লিনিক ব্যবসা, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০১:০২ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

নওগাঁয় বেসরকারি ক্লিনিক ‘শাহ নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ ভুল অপারেশনে আল এখলাস (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর ২টার দিকে শিশুটিকে গলায় টনসিল অপারেশনের জন্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর রাত ১০টার দিকে অপারেশন করেন নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাফুদৌল্লা। আধা ঘণ্টা পর অপারেশন শেষে রোগীকে বেডে রাখা হয়।

কিন্তু দ্বিতীয়বার আবার রোগীকে অপরেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। রোগীর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক বলে রাত ১২টার দিকে রামেকে রেফার্ড করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে নিজেরাই অ্যাম্বুলেন্স ডাকে।

এরপর রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠানোর পর ক্লিনিকের সব দরজায় তালা দিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে গেছে।

রোববার সকালে ক্লিনিকে রোগীর আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা এসে ভিড় জমায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। স্বজনদের অভিযোগ অপারেশন থিয়েটারে ভুল অপারেশনে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক শাহ মো. নুরুল ইসলাম ও ডা. আসাফুদৌল্লার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

জেলা সিভিল সার্জন পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় আধুনিক সদর হাসপাতাল ১টি ও ১০ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে ১০টি। এছাড়া ৭৭টি বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭টির মতো বেসরকারি ক্লিনিক রয়েছে।

যত্রতত্র ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে বেসরকারি ক্লিনিক। নিয়ম রয়েছে ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক একজন এমবিবিএস ডাক্তার, তিনজন ডিপ্লোমা নার্স ও অবকাঠামোগত অবস্থা ভালো হতে হবে। কিন্তু কোনো নিয়মনীতি না মেনেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অনুমোদন নিচ্ছে এসব ক্লিনিকগুলো।

অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না রেখে নোংরা পরিবেশে অপারেশন করা হয়। এছাড়া অনভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সদের দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। নিয়মিত বেসরকারি ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করার কথা থাকলে তা করা হয় না। আর ক্লিনিকে না গিয়ে অফিসে বসে মাস শেষে খাম পেয়ে থাকেন সিভিল সার্জন।

আবার অনেক সময় ক্লিনিক পরিদর্শনে গেলেও নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অপারেশনের জন্য অনুপযোগী ঘর দেখার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়না। আর এভাবেই যোগসাজসে দেদারছে চলছে চিকিৎসা ব্যবসা। আবার কোনো ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবার আড়ালে দেহ ব্যবস্থা ও মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে।

জেলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আতোয়ার রহমান খোকা বলেন, যেসব ক্লিনিক মানসম্পন্ন, যেখানে ডাক্তার এবং সেবিকা যথাসাধ্য চিকিৎসা দিতে পারবে সেসব ক্লিনিক চালু থাকুক। আর যেসব ক্লিনিক চিকিৎসার নামে ব্যবসায় নেমেছে সেগুলো বন্ধ করা হোক। ব্যাঙের ছাতার মতো রাতারাতি এসব ক্লিনিক কিভাবে গড়ে উঠছে তা আমরা নিজেরাও জানি না।

সিভিল সার্জন ডা. মমিনুল হক বলেন, ভুল অপারেশনে রোগী মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমার জানামতে চিকিৎসা সেবায় ডা. আসাফুদৌল্লা সবচেয়ে ভালো। তবে কিভাবে কী হয়েছে তদন্ত না করলে কিছু বলা যাবে না।

ক্লিনিক অব্যবস্থাপনা ও পরিদর্শন না করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি যেসব ক্লিনিকগুলো পরিদর্শন করেছি সেগুলো মোটামুটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে ‘শাহ নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ এখনও যাওয়া হয়নি।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমিত কুমার কুন্ড বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আব্বাস আলী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।