আধুনিক হাসপাতালে নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০২:২৯ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৩:১৭ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮
আধুনিক হাসপাতালে নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফেনী আধুনিক সদর হাসাপাতাল। নামে আধুনিক হাসাপাতাল হলেও লাশ কাটার মর্গে নেই কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি। লাশ কাটা হয় ছুরি, ব্লেড ও বাটাল দিয়ে। মর্গে নেই পর্যাপ্ত পরিমাণে সুযোগ-সুবিধা। দুর্গন্ধময় পরিবেশ। হিমঘর ও জেনারেটর নেই। বিদ্যুতের লাইন থাকলেও বেশির ভাগ সময় অকেজো হয়ে থাকে। নেই উন্নত মানের লাইটিং ব্যবস্থা। এছাড়া বিগত ৮ বছর ধরে পানির লাইনে পানি নেই।

জানা যায়, হাসপাতালের পশ্চিম পাশে জরাজীর্ণ ছোট একটি ঘর। যে কোনো দুর্ঘটনায় নিহতের মরদেহটি ওখানেই রাখা হয়। অব্যবস্থাপনা আর নোংরা পরিবেশে। বেশিরভাগ মরদেহ কাটার পর জরাজীর্ণ, ময়লা-আবর্জনার সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালের লাশ কাটা ঘরের চিত্রটা এমনই। হাতুড়ি-বাটাল, কখনো সার্জারি ব্লেড দিয়েই ডোম এক প্রকার যুদ্ধ করে লাশ কাটছেন প্রতিদিন। যেন মরদেহের ওপর চলে ময়নাতদন্তের নামে এক ধরনের নির্যাতন। নিয়ম অনুযায়ী লাশ কাটা-ছেঁড়া করার সময় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও এখানে সেটাও নেই। ডাস্টবিনের পাশে জরাজীর্ণ এ ভবনে ফ্লোরে রেখে মরদেহ কাটা হচ্ছে বছরের পর বছর।

Feni-Hospital-2

উন্নত বিশ্বে ময়নাতদন্তের জন্য আধুনিক যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে রয়েছে- ইলেকট্রিক্যাল করাত, উন্নতমানের এক্সরে মেশিন ও এক্সলাবিন (আলামত রক্ষাকারী বাক্স), লাশ সংরক্ষণের ক্যামিকেল। ইলেকট্রিক্যাল করাতের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশ দ্রুত ও সূচারুপে কাটা যায়। এতে মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে রক্তক্ষরণ কম হয়। অনেক সময় বুলেট এক স্থানে টুকে অন্য স্থানে চলে যায়। সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। এক্সরে মেশিনের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির শরীরের মধ্যে কোনো স্থানে বুলেট আছে কি না তা দ্রুত নির্ণয় করা যায়। পরে যথাযথ স্থানে কেটে মামলার আলামত বুলেটটি উদ্ধার করা যায়। অন্যথায় লাশের শরীরের বিভিন্ন স্থান কাটা-ছেঁড়া করতে হয়। এ তিনটি যন্ত্রের একটিও নেই ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে।

যেখানে একটি জেলা শহরে সর্বনিন্ম ২-৩ জন ডোমের থাকার কথা থাকলেও ফেনী সদর হাসাপাতালে আছে মাত্র একজন। কখনো কখনো দিনে ৪-৫টি লাশ কাটার কাজ করেন ওই একজনই।

হাসপাতালে কর্তব্যরত ডোম আবদুর রহিম বাদশা জানান, কাদের নামে একজনকে তিনি নিজ অর্থে সহকারী হিসেবে রেখেছেন।

লাশ কাটা ঘরে আইপিএস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি), মরদেহ রাখার জন্য হিমঘর থাকা অত্যন্ত জরুরি হলেও এসবের কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। বেশ কয়েকবার চাহিদাপত্র দিয়েও যন্ত্রপাতির বরাদ্দ মেলেনি। জেলার ৬টি থানার মৃত-অপমৃত্যুর শিকার প্রতিদিন বহুলাশ আনা হলেও অযত্ন-অবহেলায় রেখে ময়নাতদন্ত করা হয়।

Feni-Hospital-3

আধুনিক ফেনী সদর হাসপাতালের ডোম আবদুর রহিম বাদশা জাগোনিউজকে জানান, কোন রকম আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই সর্জারি ব্লেড, বাটাল দিয়ে বিগত প্রায় ১৮ বছর ধরে এ হাসপাতালে লাশ কাটি। উন্নত যন্ত্রপাতির জন্য বার বার বলা হলেও কর্তৃপক্ষ সে দিকে নজর দিচ্ছেন না।

সমস্যার কথা স্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অসীম কুমার সাহা বলেন, হাসপাতাল থেকে আমরা সার্জারি ব্লেডসহ কিছু উপকরণ সরবরাহ করছি। যন্ত্রপাতিসহ লাশ রাখার জন্য অত্যাধুনিক হিমঘরের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।

আরএ/পিআর