‘হাঁড়ির খবর ফাঁস করে দেব’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৫:৪৬ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তার মাসিক আয় ১৬ হাজার ৬৬৭ টাকা।

যা বর্তমানে একজন রিকশাচালকের আয়ের চেয়েও কম। তাহলে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দেড় কোটি টাকার গাড়িটি চলে কী বাতাসে? আর ড্রাইভারও কী হাওয়া খেয়ে গাড়ি চালান? মঞ্জু যে আলিশান বাড়িতে বসবাস করেন তার মাসিক ভাড়া কম করে হলেও ২০ হাজার টাকা। তাহলে কী তিনি বাড়িওয়ালাকে জিম্মি করে অথবা বিনা ভাড়ায় বসবাস করেন?

খুলনাবাসীর সামনে এমন হাজারো প্রশ্ন রেখেছেন খুলনার আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। মঞ্জুর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, আমাদের বাধ্য করবেন না। বাধ্য করলে আপনার হাঁড়ির খবর ফাঁস করে দেব। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রশ্ন রাখেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু কর্তৃক নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল করার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, মেয়র প্রার্থী ও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক, জেলা সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন ও নগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি।

সম্মেলনে তালুকদার আব্দুল খালেক তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ১৯৭৭ সাল থেকেই আমি নির্বাচন করছি। সব নির্বাচনেই আমি হলফনামা দিয়েছি। কোনো সময় কোনো তথ্য গোপন করে হলফনামা জমা দেইনি। আমি ও আমার স্ত্রী একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। লাভজনক যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমি জড়িত রয়েছি, সব কিছুর হিসাব আমি দাখিল করেছি। এখানে চাতুরতার কোনো বিষয় নেই।

তিনি বলেন, আমি হলফনামায় সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের বিষয়ে উল্লেখ করেছি। আমার এলাকায় লখপুর গ্রুপের প্রতিষ্ঠান থাকায় সুপারিশ করে এলাকাবাসীর চাকরির ব্যবস্থা করেছি। লখপুর গ্রুপের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন বলেন, কোটি টাকার পাজেরো গাড়ি চালিয়ে আলিশান বাড়িতে থেকে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে ১৫/১৬ হাজার টাকায় চলা যায় না তা সবাই জানেন।

তাহলে কী আমরা ধরে নেব, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর অবৈধ ব্যবসা আছে। অথবা তালুকদার আব্দুল খালেক মেয়র থাকা অবস্থায় যে সাতশ কোটি টাকা রেখে এসেছিলেন কর্পোরেশনে তা বর্তমান মেয়র মনি ও মঞ্জু ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছেন। অথবা টেন্ডারের ভাগ নিয়েছেন? তাই অপপ্রচার বন্ধ রাখুন, না হলে আপনার হাঁড়ির খবর বের করে আনা হবে।

আলমগীর হান্নান/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :