১৫ বছর পর বাবাকে খুঁজে পেলেন সন্তান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ০৮ জুলাই ২০১৮

মানুসিক ভারসাম্যহীন বাবা আবুল খায়ের হঠাৎ নিখোঁজ। দেশের বিভিন্নস্থানে বহু খোঁজখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বাবার নিখোঁজে মাও অসুস্থ হয়ে দুনিয়া থেকে চির বিদায় নেন। এতিমের মতো আমাদের কষ্টের মধ্যে দিন কাটে। তারপরও বাবার খোঁজের কমতি ছিল না। অবশেষে দীর্ঘ ১৫ বছর পর সাতক্ষীরা থেকে বাবাকে ফিরে পাওয়া গেল। কথাগুলো বলতে বলতে গুমরে গুমরে কাঁদলেন আবুল খায়েরের ছেলে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নের নওগাঁও সরকার বাড়ি পাঁচকিপাড়া গ্রামের শাজাহান সরকার।

দিনমজুর শাজাহান সরকার জাগো নিউজকে জানান, ১৫ বছর আগের কথা। পড়ন্ত বিকেলে চা পানের কথা বলে হুট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ৫৫ বছর বয়সী বাবা আবুল খায়ের। স্থানীয়ভাবে তাকে সবাই লনু মিঞা বলে চেনেন। ২ ছেলে ও ৫ মেয়ে সন্তানের জনক লনু মিঞা তখন থেকেই মানসিকভাবে কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ ছিলেন। তবে তার আচরণের মধ্যে পাগলামির তেমন নমুনা ছিল না। লনু মিঞা চা পানের কথা বলে সেই যে বেরিয়ে গেলেন আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর তিনি কোথায় ছিলেন তা কারও জানা ছিল না।

পনের বছর ধরে বহু জায়গায় বাবাকে খুঁজেছি। কয়েক দিন কামলা খেটে যেক'টা টাকা পাই, তা দিয়ে সংসার চালাই, আর বাবাকে খুঁজি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের কোথাও বাদ নেই যে তাকে খুঁজি নাই। এই সময়ের মধ্যে স্বামীকে হারিয়ে শুধু কাঁদতেন আমার মা। এক পর্যায়ে তিনি শয্যাশায়ী হলেন। আর উঠলেন না। চির বিদায় নিলেন। অবশেষে ৮ জুলাই রোববার সকালে খুঁজে পেয়েছি বাবাকে।

খুলনার পাটকেলঘাটা থানার ত্রিশমাইল এলাকার চা বিক্রেতা নুর ইসলাম শাজাহান সরকারকে জানান, মাস তিনেক আগে স্থানীয় সাইকেল মিস্ত্রি গাউসের দোকানের সামনে বৃদ্ধ লোকটাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি তাকে তুলে মসজিদের পাশে থাকতে দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি অপরিচিত এই লোকটাকে খাইয়েছেন। এমনকি তার চিকিৎসাসেবাও দিয়েছেন। পরে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তার থাকার জন্য একটা জায়গাও করে দেন। এভাবেই চলছিল। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারা চিন্তায় পড়ে যান। তিনি কোনো কথা না বলায় তার পরিচয় জানা সম্ভব হচ্ছিল না। বহু চেষ্টার এক পর্যায়ে তার পরিচয় জানা সম্ভব হয়। পরে তার ঠিকানা সংগ্রহ করে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সরবরাহ করেন।

সাতক্ষীরার গণমাধ্যমকর্মী আবুল কাসেম জানান, নুর ইসলামের কাছ থেকে ঠিকানা সংগ্রহ করে তিনি সংবাদের চাঁদপুর প্রতিনিধি শাহ মাকসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর মতলব প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাসের মাধ্যমে খোঁজ মেলে লনু মিঞার পরিবারের।

লনু মিঞার ছোট ভাই শাহ আলম জাগো নিউজকে জানান, সাংবাদিক শ্যামল চন্দ্র দাসের কাছ থেকে ভাইয়ের খবর জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে স্বল্প প্রস্তুতি নিয়েই তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েন। ভাইকে খুঁজে পাওয়ার আনন্দে রাতে গাড়ির মধ্যে এতটুকু ঘুমাতে পারেননি তারা কেউই।

ইকরাম চৌধুরী/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।