কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া ঘাটে গাড়ির দীর্ঘ সারি
মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকট ও লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে বিকল্প চ্যানেল তৈরির কাজ চলায় ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এই নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রী ও চালকরা। সেইসঙ্গে ঘাট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যানবাহনের এ দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এর আগে প্রায় আঠার ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর সোমবার দুপুর থেকে সীমিত আকারে ফেরি চলাচল শুরু হয়। নাব্যতা সংকটের কারণে রোববার রাত থেকে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
এদিকে, ৭টি ড্রেজার দিয়ে প্রায় এক মাস ধরে নাব্যতা সংকট দূর করতে লৌহজং টার্নিং পয়েন্টে বিকল্প চ্যানেল তৈরির কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ। কিন্তু চ্যানেলের মুখে অতিরিক্ত বালু জমাট হওয়ায় চ্যানেলটি ব্যবহার করতে পারছেন না ফেরিচালকরা। ফলে গত আটদিনেও কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থা কাটেনি।
কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাট সূত্র জানায়, শিমুলিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি, ৮৭টি লঞ্চ এবং দুই শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করে। নাব্যতা সংকটের কারণে ছয়টি ডাম্প ফেরি ও তিনটি রো রো ফেরি চলাচল করতে পারছে না। এখন দুটি ভিআইপি ফেরিসহ ৫-৬টি ফেরি কোনোমতে চলাচল করছে। বিকল্প চ্যানেলের ৮ কিলোমিটার নৌপথে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে।

এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা বলছেন, নৌপথে ফেরি চলাচলে এই অবস্থা থাকলে পবিত্র ঈদুল আজহায় নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবেন না তারা। গত কয়েকদিন ধরে ফেরি চলাচলে অচলাবস্থার কারণে কাঁঠালবাড়ি ঘাটে এখন প্রায় পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এবারও যদি ঈদের সময় ট্রাক পারাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় আগামী ১৫ দিনেও নদী পার হতে পারবেন না বলে ধারণা করছেন ট্রাকচালকরা।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, আমরা গত এক মাসে প্রায় ৩৫ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করেছি। কিন্তু বিকল্প চ্যানেলে ফেরি চলাচলে যে গভীরতা রয়েছে তা ঠিক আছে। এবার উজান থেকে আসা পানি ও বালুর পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত। ফলে চ্যানেল মুখে হাজরা টার্নিং পয়েন্টে বালু পড়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ৩-৪ দিন আগে ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেয়ার পর উজানে তীব্র নদী ভাঙনের পলি ও টার্নিংয়ের চর ভাঙনে বিপুল পরিমাণ পলি এসে নাব্যতা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটছে। চেষ্টা করেও নাব্যতা ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মনে করে কাজ করছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নদীতে বিআইডব্লিউটিএ’র শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
এ কে এম নাসিরুল হক/এএম/পিআর