শেষমেষ অভিযোগটাই তুলে নিলেন ভুক্তভোগী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৫৯ এএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর বাজারে বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণ তালুকদার (২৬) নামে এক ওয়ার্কশপ মিস্ত্রিকে ঘরের পিলারের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলেই উপজেলার খালিসাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও মধ্যনগর বাজারের ‘ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’র মালিক মাহবুব আলম তালুকদার ও তার ছোট ভাই রফিকুল তালুকদারকে আসামি করে মধ্যনগর থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন নারায়ণ তালুকদার।

কিন্তু সেই অভিযোগটি পুলিশ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি। উল্টো থানা পুলিশের কয়েক সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর চাপের মুখে মারধরের শিকার ওই ব্যক্তি অভিযোগটি প্রত্যাহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি নারায়ণ তালুকদার বছরখানেক আগে মাসিক বেতনে মধ্যনগর বাজারের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক ও উপজেলার খালিসাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব আলম তালুকদারের অধীনে ওই ওয়ার্কশপে কাজ করতেন।

পরে ওই ওয়ার্কশপটিতে তেমন কাজ না থাকায় নারায়ণকে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করেন মাহবুব আলম তালুকদার। এ অবস্থায় ওই বাজারের অন্য আরেকটি ওয়ার্কশপে মাসিক বেতনে কাজে যোগ দেন নারায়ণ। তবে আগের ওয়ার্কশপে থাকাকালীন নারায়ণের কাছে মালিক মাহবুব আলম তালুকদারের ২৮ হাজার টাকা পাওনা থেকে যায়। এই টাকা পরিশোধের জন্য নারায়ণের মা গীতা রানী তালুকদার সালিশের মাধ্যমে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নেন।

বৃহস্পতিবার নারায়ণ তালুকদার উপজেলার মধ্যনগর বাজারের ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় মাহবুব আলম তালুকদার ও তার লোকজন নারায়ণকে মারতে মারতে ওয়ার্কশপের ভেতরে নিয়ে গিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এ অবস্থায়ও তাকে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে মধ্যনগর থানা পুলিশ রশি দিয়ে বাঁধা থাকা অবস্থায় তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।

দুপুর ২টার দিকে থানা পুলিশ ওয়ার্কশপ মালিক মাহবুব আলম তালুকদারকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

পরে মারধরের ঘটনায় ওইদিন বিকেলে মাহবুব আলম তালুকদার ও তার ছোট ভাই রফিকুল তালুকদারকে আসামি করে মধ্যনগর থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন নারায়ণ তালুকদার। কিন্তু অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেয়নি পুলিশ।

এদিকে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় এমপির ছোট ভাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন রোকন তার কয়েক সহযোগী নিয়ে আটক ব্যক্তিকে ছাড়াতে থানায় গিয়ে উপস্থিত হন। রাত ১০টার দিকে মাহবুব আলম তালুকদার সেখান থেকে ছাড়া পান।

মধ্যনগর থানার ওসি সেলিম নেওয়াজ বলেন, ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি নারায়ণ তালুকদার তার দেয়া লিখিত অভিযোগটি স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাই এই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি। তাছাড়া পুলিশের কোনো সদস্য নারায়ণ তালুকদারের অভিযোগটি তুলে নেয়ার ব্যাপারে চাপ দেয়নি। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

তবে ওই ব্যক্তি যদি কারও চাপের মুখে পড়ে অভিযোগটি প্রত্যাহার করে থাকেন তাহলে এই ঘটনাটি অবশ্যই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।

এফএ/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :