পদ্মার পাড়ে বসে কাঁদছেন সামসুন্নাহার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪২ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২০১৬ সালে ঋণ করে পদ্মা নদীর দুই কিলোমিটার দূরে ১২ লাখ টাকা খরচ করে একটি পাকা বাড়ি তৈরি করেছিলেন সামসুন্নাহার বেগমের স্বামী। কিন্তু দুই বছরের ব্যবধানে পদ্মার ভাঙনে তাদের সেই বাড়ির অর্ধেক নদী গর্ভে চলে যায়। পরে বাকি অংশ ২৫ হাজার টাকা বিক্রি করে দেন। এখন রাক্ষুসী পদ্মার পাড়ে এসে চোখের পানি ফেলেন সামসুন্নাহার।

সামসুন্নাহার বেগম নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামের জালাল বেপারীর স্ত্রী। তাদের এক ছেলে ইতালিতে থাকেন।

বুধবার পদ্মার পাড়ে কথা হয় সামসুন্নাহারের সঙ্গে। তিনি চোখের পানি মুছতে মুছতে জাগো নিউজকে বলেন, বেঁচে থাকার আর কোনো অবলম্বন নেই। কান্নাই এখন আমার জীবনের বড় সত্য।

সামসুন্নাহার বলেন, ২২ শতাংশ জমি ছিলো আমাদের। স্বামী ব্যবসা করতেন। সেই ব্যবসার টাকা ও ঋণ করে সেই জমিতে আমার স্বামী ১২ লাখ টাকা দিয়ে ২০১৬ সালে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেন। আর ছেলেকে বিদেশে পাঠাই। ঘর তুলে ও ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর পর আমার স্বামী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর ঋণ আর পরিশোধ করতে পারছি না। এই বিপদের মধ্যে আমাদের ফসলি জমিটুকু পদ্মা নদীর গর্ভে চলে যায়। পরে ১২ লাখ টাকার বাড়িটির অর্ধেক নদী গর্ভে চলে যায়। পরে সেই বাড়িটির বাকি অংশটুকু ২৫ হাজার টাকা বিক্রি করি। আমার কোনো জায়গা রইল না। ১২ লাখ টাকার ঘরটি এক বছরেই পদ্মার পেটে চলে গেল।

তিনি বলেন, জমি-ঘর সব হারালাম পদ্মায়। এখন অন্যের ঘরে থাকি ও খাই। অন্যের ঘরে কতদিন থাকা-খাওয়া যায়? কোথায় গিয়ে থাকবো বলতে পারছি না। তাই নদীর পাড়ে এসে বসে থাকি, আর কান্না করি।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, ইতোমধ্যে ভাঙন কবলিতদের আশ্রয়ের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভাঙন কবলিত সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল, শুকনা খাবার ও টিন দেয়া হয়েছে। আর পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে টিন ও নগদ টাকা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

ছগির হোসেন/আরএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :