মন্ত্রীর বাড়ির সামনে রাস্তা বাড়াতে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৬ এএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ফাইল ছবি

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের সামনের রাস্তা প্রশস্তকরণে নোটিশ ছাড়াই তিনটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ লক্ষ্মীপুর শহরের চকবাজার এলাকায় জেলা পরিষদ থেকে বন্দোবস্ত নেয়া দোকানগুলো গুড়িয়ে দেয়া হয়।

শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলী ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির রহমান সানির নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলা পরিষদ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দোকানগুলোতে (চান্দিনাভিটা) ব্যবসা করে আসছেন তারা। বিকেলে প্রশাসনের লোকজন এসে তাদের ‘দুই মিনিটের’ মধ্যে দোকানগুলো ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেন। এ সময় তারা দোকানের মালামাল সরিয়ে নেয়ারও সুযোগ পাননি।

পরে মুহূর্তের মধ্যে শ্রমিকরা দোকানগুলোর টিনের চাল খুলে দেয়াল গুড়িয়ে দেয়। ওই দোকানগুলো হলো বায়েজিদ পোশাক বিতান, সজীব স্টোর ও বিন্দু কালেকশন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাত দেখিয়ে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে কোনো নিয়ম মানা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির এক নেতা বলেন, মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বন্দোবস্তকারীদের উচ্ছেদ করা ঠিক হয়নি। এতে আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শাজাহান আলী ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির রহমান সানি বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তবে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, জেলা পরিষদ আমাদের কাছে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছে। আমরা সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়েছি। ব্যবসায়ীদের নোটিশ দিয়েছে কিনা সেটা জেলা পরিষদের এখতিয়ার।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু দাউদ মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। ওই জমিটি এক বছরের জন্য বন্দোবস্ত ছিল। তাদের মৌখিকভাবে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

তবে বক্তব্য জানতে বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও কেউ রিসিভ করেননি।

কাজল কায়েস/এফএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :