মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এলেন বিপ্লব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৫ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৮

রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতায় হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড থেকে মওকুফ পাওয়া আসামি লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র আবু তাহেরের বড় ছেলে আফতাব উদ্দিন বিপ্লব এখন কারামুক্ত। দীর্ঘ ১৭ বছর ফেরারি ও বন্দী জীবন কাটিয়ে মঙ্গলবার সকালে বিপ্লব লক্ষ্মীপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।

কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তিনি লক্ষ্মীপুর শহরের বাসায় আসেন। সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নাস্তা করেন। ওই সময়ের বেশ কয়েকটি ছবি বিপ্লবের ছোট ভাই সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন। কিছু সময়ের মধ্যে ছবিগুলো ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাহের পরিবার ও বিপ্লব অনুসারীরা ফেসবুকে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে মুজিব আদর্শের সৈনিকসহ আপোষহীন নেতা হিসেবে বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা গেছে। বিপ্লবসহ তাহের পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। এর আগে ২০১৪ সালে কারাগারে থেকে বিয়ে করে আলোচিত হন বিপ্লব।

জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী (সাবেক পিপি) নুরুল ইসলামকে লক্ষ্মীপুর শহরের বাসা থেকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এটি তখন দেশজুড়ে আলোচিত ঘটনা ছিল। তখন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র আবু তাহেরও ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। ওই সময় তিনি পৌর চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বহুল আলোচিত নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় ২০০৩ সালে তাহেরপুত্র বিপ্লবসহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারিক আদালত। দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় পলাতক থেকে বিপ্লব ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আবু তাহের ছেলে বিপ্লবের প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৪ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান তার সাজা মওকুফ করেন। পরের বছর আরও দুটি হত্যা মামলায় (কামাল ও মহসিন হত্যা) বিপ্লবের যাবজ্জীবন সাজা কমিয়ে ১০ বছর করেন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১২ সালে ফিরোজ হত্যা মামলা থেকেও বিপ্লবের নাম প্রত্যাহার করা হয়। তার আগে ২০০৯ সালে জাহেদ হত্যা ও এতিমখানায় অগ্নিসংযোগ মামলা থেকে বিপ্লবের নাম বাদ পড়ে। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির বিশেষ ক্ষমতায় ফাঁসির দণ্ড মওকুফ ও জেল রেয়াত সুবিধা পেয়ে বিপ্লব এখন কারামুক্ত।

কাজল কায়েস/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।