৭ বছরে রাজশাহী অঞ্চলে দ্বিগুণ আমবাগান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক রাজশাহী
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

গেল সাত বছরে রাজশাহী অঞ্চলে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে আমবাগান। এর অধিকাংশই গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। এই কয়েক বছরে আম উৎপাদন ছাড়িয়েছে দ্বিগুণ। কিন্তু সর্বশেষ কয়েক বছর আমের দাম পাননি বাগান মালিকরা।

কৃষি দফতর বলছে, ব্যাপক উৎপাদন হওয়ায় ভরা মৌসুমে কমছে আমের দাম। তাছাড়া রফতানি বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে না। আর এ কারণেই আম কেন্দ্রিক এ অঞ্চলের অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফিরছে না।

আম উৎপাদনের জন্য এতদিন খ্যাতি ছিলো রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার। এ তিন জেলা ছাড়াও নাটোর জেলা নিয়ে রাজশাহী কৃষি অঞ্চল গঠিত। লাভজনক হওয়ায় আমবাগান তৈরি করছিলেন কৃষক। তাছাড়া গত এক দশকে এই অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়েছে আমবাগান। ফলে দাম কমেছে রাজশাহীর আমের।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি দফতরের হিসেবে, সর্বশেষ গত ২০১৭-২০১৮ কৃষি বর্ষে এই অঞ্চলে আমবাগান ছিল ৭০ হাজার ৩৪৬ হেক্টর। তা থেকে আম উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬১ টন। এর আগে ২০১১-২০১২ কৃষি বর্ষে রাজশাহী অঞ্চলে আমবাগান ছিল ৪২ হাজার ৪১৭ হেক্টর। সেইবার আম উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ টন।

 

Mango-Gardening

এরপর ২০১২-২০১৩ কৃষি বর্ষে ৪৮ হাজার ৬১০ হেক্টর বাগানে উৎপাদন হয় ৬ লাখ ১ হাজার ১৩৪ টন আম। ২০১৩-২০১৪ কৃষি বর্ষে আমবাগান বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার ৮৯১ হেক্টর। উৎপাদন বেড়ে ওই বছর দাঁড়ায় ৫ লাখ ৩৯ হাজার ২৫৫ টন। ২০১৪-২০১৫ কৃষি বর্ষে ৫৪ হাজার ৭২২ হেক্টর বাগানে আম উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৩৬ টন।

২০১৫-২০১৬ কৃষি বর্ষে ৫৭ হাজার ৮৬৪ হেক্টর বাগানে উৎপাদন হয় ৬ লাখ ৪২ হাজার ১৮৩ টন আম। এছাড়া ২০১৬-২০১৭ কৃষি বর্ষে ৬৬ হাজার ৩০০ হেক্টর আম বাগান থেকে ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪৯ টন আম উৎপাদন হয়।

এদিকে মুকুলের ভারে নুয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের আমবাগানগুলো। চারদিকে মধুর ঘ্রাণ। কেবলই ভ্রমরের গুঞ্জন। জানুয়ারির শেষভাগ থেকেই শুরু হয়েছে মুকুল আসা, আসবে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। পরিচর্যায় বাগানে বাগানে আমচাষি ও বাগান মালিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে এ অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সব গাছে মুকুল চলে আসবে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুযোর্গ না এলে এ বছর ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তারা।

এই ফল গবেষক আরও বলেন, এখন চাষিরা অনেক বেশি সচেতন। বছরজুড়েই বাগানের পরিচর্যা চলছে। বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষ হচ্ছে আম। এসেছে হাইব্রিডসহ নানান আমের জাত। ফলে এখন আর অনইয়ার বা অফ ইয়ার নেই।

southeast

এই মুহূর্তের বাগান পরিচর্যার বিষয়ে তিনি বলেন, মুকুল আসার আগেই প্রতি লিটার পানিতে আধা মিলিলিটার ইমিডাক্লোপ্রিড গ্রুপের তরল এবং দুই গ্রাম ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। আম গুটি হওয়ার পরও আরেক দফা একই মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া আমের বয়স ৪৫ দিন হলে আগ্রহী চাষিরা আরেক দফা কীটনাশক প্রয়োগের পর ফ্রুট ব্যাগিং করতে পারেন।

এদিকে দেশে রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হলেও রফতানি তালিকায় নেই বাংলাদেশ। সীমিত হলেও গত কয়েক বছর ধরেই এই অঞ্চল থেকে আম রফতানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। আর এ জন্য রাসায়নিক মুক্ত আম উৎপাদন করছেন চাষিরা। ভালো দাম পাওয়ায় এবারো প্রস্তুত হচ্ছেন তারা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রপ্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামছুল ইসলাম বলেন, আগে কেবল রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম উৎপাদন হতো। এখন সারা দেশেই ছড়িয়েছে আম চাষ। উৎপাদনও হচ্ছে ব্যাপক। ফলে বাজারে আমের দাম কম পাচ্ছেন বাগান মালিক।

তিনি আরও বলেন, এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য আম রফতানি। তবে কৃষকরা যেভাবে আম চাষ করেন তাতে আমের গুণগতমান রক্ষা হচ্ছে না। আর এ কারণেই নিরুৎসাহিত হচ্ছেন বিদেশি ক্রেতারা। তবে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনে বাঝাইকৃত বাগান মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন রফতানিকারকরা। এসব আম বাগান মানসম্মত আম উৎপাদনে নজরদারি করছেন কৃষি দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।