সাগর পথে মালয়েশিয়া যেতে চেয়েছিলেন তারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৩:৫০ পিএম, ১৩ মে ২০১৯

কক্সবাজারের টেকনাফ ও মহেশখালী থেকে নৌপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য জড়ো হওয়া ২০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে পৃথক সময়ে তাদের আটক করা হয়। আটক রোহিঙ্গাদের মাঝে ১১ নারী, ৭ পুরুষ ও ২ শিশু রয়েছে।

টেকনাফ সূত্র জানায়, রোববার রাত ১০টার দিকে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়ার ডেইল পাড়া থেকে ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। তারা সাগর পথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল বলে দাবি পুলিশের। তাদের ৬ জন নারী ও ২ জন পুরুষ।

টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, কয়েকজন রোহিঙ্গা উপকূল এলাকা দিয়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় ৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। তারা বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবির থেকে এসেছে। সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য তারা ওই জায়গায় জড়ো হয়েছিল।

অপরদিকে, মহেশখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে। গতকাল রোববার রাতে মহেশখালী থানা পুলিশের এসআই পংকজ দাশের নেতৃত্বে হোয়ানক পানিরছড়া গ্রামস্থ কবির আহাম্মদের বসতবাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় পানিরছড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের ছেলে কবির আহমেদকেও (৪৮) আটক করে। আটক রোহিঙ্গাদের মাঝে ৫ নারী, ৫ পুরুষ ও ২ শিশু রয়েছে।

মহেশখালী থানা পুলিশের ওসি প্রভাষ চন্দ ধর বলেন, সাগর পথে মালয়েশিয়া যাবার আশায় এসব রোহিঙ্গাকে জড়ো করা হয়েছিল বলে জানতে পেরেছি। এদের স্ব স্ব ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মানব পাচারকারী চক্রটি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এজন্য তারা রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে ফাঁদে ফেলছে। আর উন্নত জীবনের স্বপ্নে রোহিঙ্গারাও ক্যাম্প ত্যাগ করে বিভিন্নস্থানে জড়ো হচ্ছে। পাচারকারী চক্রটি প্রচার করে, রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার জন্য বড় জাহাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাহাজটি গভীর সাগরে অপেক্ষমাণ রয়েছে। এজন্য রোহিঙ্গারা ঝুঁকি নিয়ে ওই জাহাজের উদ্দেশ্যে রওনা হতে মরিয়া হয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, মানব পাচারকারীদের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। তাদের প্রতিহত করতে কাজ করছে সব থানার পুলিশ। স্থানীয় জনগণকেও এতে সামিল হতে অনুরোধ জানান তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :