লক্ষ্মীপুরে জেলারসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
লক্ষ্মীপুরে ছাত্রদল নেতা নাছির আলম মিশনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করায় কারাগারের জেলার মোহাম্মদ শাহ আলমসহ ২১ জনের বিরুদ্ধ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৩ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে আসিবুল হাসান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলারসহ আসামিদের বিরুদ্ধে তিনজনকে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে রোববার কারারক্ষীদের মারধরের ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিশনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন জেলার।
আসিবুল হাসানের আইনজীবী সৈয়দ মোহাম্মদ ফখরুল আলম নাহিদ বলেন, জেলারের বিরুদ্ধে মামলাটি আদালত আমলে নিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।
জেলার ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- আলমগীর, রবিউল, নাছির, দেবাশীষ, সাখাওয়াত, সাহাবুদ্দিন, আশিক, হাবিব, সাইফুল, ইউসুফ ও অজ্ঞাত আরও ১০ জন। তারা লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের কারারক্ষী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩১ মে) রাতে শহরের আটিয়াতলি এলাকায় জেলা কারাগারের পেছনে কারারক্ষী আলমগীর ও নাছির ইয়াবা কিনতে যায়। তারা বাইরে থেকে ইয়াবা কিনে কারাগারে সরবরাহ করে। এ সময় মামলার বাদী আসিবুল হাসানসহ এলাকার লোকজন তাদেরকে আটক করে কারাগারের পাশে ইসলাম মার্কেটের সামনে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে জেলারসহ মামলায় আসামিরা ঘটনাস্থল এসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে আসিবুলসহ তিনজনকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে আসিবুলকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। আহতদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে জেলারসহ কারারক্ষীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। আহতরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে সদর থানায় জেলার শাহ আলম অভিযোগ করেন, নাছির আলম মিশনসহ তার অনুসারিরা গত ৩১ মে রাতে তিনজন কারারক্ষীকে পিটিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় মিশনকে প্রধান করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে রোববার (২ জুন) সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আসিবুল হাসানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। এর আগেও ১৭ মে মিশনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা নাছির আলম মিশন বলেন, কারারক্ষীরা মাদকের সঙ্গে জড়িত। হাতেনাতে তাদের ধরার পর আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা মামলা করেছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের জেলার মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, কারারক্ষীদের মারধরের ঘটনায় মিশন ও আসিবুলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে কল্পকাহিনী সাজিয়ে আদালতে অভিযোগ করেছে।
কাজল কায়েস/আরএআর/এমএস