মুক্তিযোদ্ধাকে দাদা বানিয়ে সরকারি চাকরি নিলেন ওয়াজেদ আলী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০১৯

নওগাঁয় মুক্তিযোদ্ধাকে দাদা বানিয়ে পোষ্য কোটায় সরকারি চাকরি বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওয়াজেদ আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ওয়াজেদ আলী সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনি জেলার বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের জগদিসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. শফিকুল ইসলাম এবং দাদার নাম সায়েজ উদ্দীন। ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি অফিসে যোগদান করেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, অফিসে জমা দেয়া ওয়াজেদ আলীর নথিতে বাবার নাম মো. শফিকুল ইসলাম এবং দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ উদ্দীন। জাতীয় পরিচয়পত্রে ওয়াজেদ আলীর বাবার মো. শফিকুল ইসলাম হলেও মো. শফিকুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্রে তার বাবার নাম সায়েজ উদ্দীন (ওয়াজেদ আলীর দাদা) উল্লেখ করা আছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওয়াজেদ আলী একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ উদ্দীনকে দাদা পরিচয় দিয়ে পোষ্য কোটায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন। একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে দাদা সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়ে গত ১৯ মাস ধরে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ উদ্দীন বলেন, আমার বয়স প্রায় ৭৫ বছর। আমার তিন মেয়ে। কোনো ছেলে নেই। আমি গরিব মানুষ। সরকার থেকে যে ভাতা দেয়া হয় তা দিয়ে তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। তিন মেয়ের সন্তান আছে। তবে তাদের কারো চাকরি করার মতো বয়স হয়নি। তারা এখনও পড়াশোনা করছে। আমার নাতি পরিচয় দিয়ে যদি কেউ চাকরি করে, সুষ্ঠু তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। কীভাবে সে আমার নাম-পরিচয় ব্যবহার করেছে আমি তার কিছুই জানি না।

পাহাড়পুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সামছুল আলম বলেন, আব্দুল আজিজ একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তার মেয়ে আছে, কিন্তু কোনো ছেলে সন্তান নেই। আর সায়েজ উদ্দীন নামে ওই এলাকায় কোনো মুক্তিযোদ্ধা নেই। একজন মুক্তিযোদ্ধার নাম ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি করা গুরুতর অপরাধ। এর শাস্তি হওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কেন ঘাটাঘাটি করছেন? আপনারা যা পারেন করেন। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না।’

নওগাঁ সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম মফিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে তাকে পদায়ন করার পর তিনি এ অফিসে যোগদান করেছেন।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সবেমাত্র অফিসে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। সার্ভিস বুকে যে তথ্য আছে এর বাইরে আমরা কিছু বলতে পারি না। তবে অভিযোগ সত্য হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আব্বাস আলী/এমবিআর/এমকেএইচ