জঙ্গি হামলা সঠিক রাস্তা নয়, সমাধান নয় : সাগরের মা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৯

রাজধানীর হলি আর্টিসান মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির একজন হাদিসুর রহমান সাগর। তার বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের কয়রাপাড়া গ্রামে। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডা. হারুনূর রশিদ ও মা আছিয়া বেগমের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে মেজ তিনি।

সাগর ২০০৫ সালে কয়রাপাড়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাশ করে বানিয়াপাড়া মাদরাসায় আলিমে ভর্তি হন। পাশাপাশি একটি ওষুধ কোম্পানিতে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরিও করেন তিনি। ২০০৭ সালে আলীম পরীক্ষায় ফেল করার পর বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন সাগর। পরে জানা যায় তিনি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

সাগরের বাবা পল্লী চিকিৎসক ডা. হারুনূর রশিদ বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। তিনি ঠিকমত চোখে দেখতে পান না, চলাফেরায়ও করতে পারেন না। কারও সঙ্গে তেমন কথাও বলেন না। সাগরের বড় ভাই ঢাকায় একটি গার্মেন্টেসে ও ছোট ভাই জাহাজ কোম্পানিতে চাকরি করেন। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। আর্থিক অস্বচ্ছতার কারণে সাগরের মা বাড়িতেই ছোট একটি মুদির দোকান দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালান। সাগর গ্রেফতার হওয়ার পর তার দুই মেয়ে হাদিয়া ও আতিয়া কয়রাপাড়া গ্রামে দাদার বাড়িতেই থাকে। তারা দুজনেই স্থানীয় একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করছে।

সাগরের মা আছিয়া বেগম বলেন, গ্রামের মানুষের মাধ্যমে জানতে পারলাম আমার ছেলের কথা। আমরা গরীব মানুষ বাবা কী বলব, কখন যে ছেলেটা এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বলতে পারব না। আমার ছেলে যদি এই কাজ করে থাকে অবশ্যই কাজটি সঠিক নয়, সঠিক রাস্তা ও সমাধান নয়। অপরাধী হলে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।

কয়রাপাড়া এলাকার গ্রামবাসী নাজমূল হোসেন জানান, পরিবারটি বরাবরই অস্বচ্ছল ছিল। ছেলেটা কষ্ট করে পড়ালেখা করেছে। কীভাবে এসবের মধ্যে জড়িয়ে গেল! আমাদের পাশের গ্রামের উত্তর মহেশপুরে জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা ছিল। আমার বিশ্বাস, ওই গ্রামের কারো মাধ্যমে সাগর জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়ায়।

আমদই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহানূর আলম সাবু ও কয়রাপাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ফরিদুজ্জামান বেবী জানান, ছেলেটা অনেকদিন ধরেই এলাকাছাড়া। পরে আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে তার জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার কথা জানতে পারি। আজ তার মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে এটাও মিডিয়ার মাধ্যমেই জেনেছি। সে কীভাবে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়েছে আমাদের জানা নেই।

রাশেদুজ্জামান/এমবিআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]