ভাসমান মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিলেন বাউফলের ইউএনও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৩:৩৭ এএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৯

সারাদেশের মতো পটুয়াখালীতেও জেঁকে বসেছে শীত। তাই প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কম্বলটি পৌঁছে দিতে রাতেও কাজ করছেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিজুষ চন্দ্র দে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকার ভাসমান অসহায় মানুষদের খুঁজে বের করে কম্বল পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।

পিজুষ চন্দ্র দে জানান, প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে ভাসমান অসহায় নারী-পুুুরুষ খুঁজে বের করেছি, যাদের গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। রাতে এমন ৬০ জনের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের কম্বলটি পৌঁছে দিয়েছি। রাতে কম্বল হাতে পাওয়ার পর ওই মানুষগুলোর মুখের হাসিটা প্রাণ স্পর্শ করে, যা সত্যি ভালো লাগে। সরকারি বরাদ্দের বাইরে প্রয়োজন হলে বেসরকারিভাবে সংগ্রহ করে কম্বল বিতরণ করা হবে।

jagonews24

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গত ১১ ডিসেম্বর থেকে প্রতি মধ্যরাতেই ভাসমান মান্তা পরিবার, হোগলা শ্রমিকসহ বিভিন্ন ধরনের অসহায়, এতিম ও দুস্থদের মাঝে আরও প্রায় ৪০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তা বলেন, ইউএনও একজন মাটির মানুষ। দিনের বেলায় দাফতরিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন। রাত হলে গাড়িতে করে কম্বল নিয়ে বের হয়ে যান। তিনি (ইউএনও) সব সময় বলেন, তোমাদের কষ্ট দেই কিন্তু কী করবো? যাতে প্রকৃত অসহায় মানুষটি প্রধানমন্ত্রীর কম্বলটি পায় এজন্য রাতে বের হই। সবাই যাতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করে।

ভাসমান ৬০ বছর বয়সী তারাবানু বলেন, ‘আমার গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। আমি তো ভাতই খেতে পারি না তার মধ্যে গরম কাপড় কিনব কেমনে? মাত্র একজন স্যার (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) একটা কম্বল দিয়েছেন। হাতে দেয়ার পর বলছেন, এটা নাকি প্রধানমন্ত্রী পাঠাইছেন। আমি দোয়া করি তাকে। তিনি আমাগো গরিবের কথা ভোলেন নাই।’

মহিব্বুল্লাহ চৌধুরী/এমএসএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।