নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ গাজীপুরে, চমক দেখালেন দেলোয়ার

শিহাব খান
শিহাব খান শিহাব খান , উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০৭:৩০ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
দেলোয়ারের বাগানে ফুটেছে টিউলিপ ফুল

*** নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ এখন গাজীপুরে
*** টিউলিপ ফুল চাষে দেশে খুলল নতুন সম্ভাবনা
*** নেদারল্যান্ডস থেকে চার রঙের টিউলিপ বাল্ব এনে চাষ
*** ২০-২২ দিনে ফুটে টিউলিপ ফুল
*** দৃষ্টিনন্দন টিউলিপ বাগান দেখতে মানুষের ভিড়

তুরস্কের জাতীয় ফুলের নাম টিউলিপ। নেদারল্যান্ডসেও টিউলিপ ফুলের ব্যাপক আবাদ হয়। বর্তমানে নেদারল্যান্ডস টিউলিপ ফুল উৎপাদনকারী প্রধান দেশ। টিউলিপকে নিয়েই সেখানে গড়ে উঠেছে শিল্প। তাই দেশটি প্রতি বছর পালন করে টিউলিপ উৎসব।

শীত আবহাওয়ার দেশ ছাড়া এশিয়া মহাদেশের ভারত, আফগানিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ ছাড়া এমন দৃষ্টি জুড়ানো টিউলিপ ফুলের দেখা মেলে না। তবে টিউলিপ ফুলের প্রতি সবার হৃদয়ে রয়েছে অগাধ ভালোবাসা।

flower

দেলোয়ারের বাগানে ফুটেছে টিউলিপ ফুল

ছয় ঋতুর বাংলাদেশে একসময় এই ফুল চাষের কথা কল্পনাও করা যেত না। মনের মাধুরী মেশানো এই ফুলের ছোঁয়া পেত না কেউ। তবে এখন দুয়ার খুলে দিয়েছেন গাজীপুরের এক ফুল চাষি। টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে দেশজুড়ে চাষের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন তিনি।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেনের বাগানে ফুটেছে টিউলিপ ফুল। স্বর্গীয় এক অনুভূতি বিরাজমান দেলোয়ারের ফুল বাগানে। ফুলের রাজ্য যেন এক স্বর্গ উদ্যান। দৃষ্টিনন্দন এই টিউলিপ বাগান দেখতে মানুষের বেড়েছে ভিড়। তার বাগানজুড়ে এখন টিউলিপময় ভালোবাসার গল্প।

flower

টিউলিপ ফুলের রাজ্য যেন এক স্বর্গ উদ্যান

ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেন তার টিউলিপ ফুল বাগানের নাম দিয়েছেন ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ারস’। এর আগে জার্বেরা, চায়না গোলাপ ও বিদেশি বিভিন্ন ফুল চাষে সফল হয়েছেন তিনি। সফল ফুল চাষি হিসেবে ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক পান দেলোয়ার। দেশে প্রথমবারের মতো ভাইরাসমুক্ত সবজির চারা উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন তিনি।

flower

বাগানজুড়ে এখন টিউলিপময় ভালোবাসার গল্প

ফুল চাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে ফুলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চাহিদা মিটাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ফুল আমদানি করা হয়। ফুল চাষে জড়িয়ে আছে কৃষি অর্থনীতির একটি অংশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ফুল চাষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠলেও আমরা পিছিয়ে। অর্থনীতি ও চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন বিদেশি ফুল দিয়ে আমার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়। নানা প্রতিবন্ধকতার পরও থেমে থাকিনি। এরই মধ্যে পেয়ে যাই একটির পর একটি সফলতা। জার্বেরা, চায়না গোলাপের পর টিউলিপ ফুল ফুটিয়ে এবার পেলাম নতুন সফলতা। পরীক্ষামূলককাজ শেষে টিউলিপ ফুল চাষ সম্প্রসারণের কাজ করব। টিউলিপ বর্ষজীবী ও বসন্তকালীন ফুল হিসেবে পরিচিত। প্রজাতি অনুযায়ী এর উচ্চতাও ভিন্ন।

flower

বাগানে ফুটেছে নানা রকম টিউলিপ

দেলোয়ার হোসেন বলেন, পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির টিউলিপ থাকলেও গত ৮ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডস থেকে এক প্রজাতির চার রঙের এক হাজার টিউলিপ বাল্ব এনে ১৫ ডিসেম্বর বাগানে রোপণ করি। ৪৫ দিন পরিচর্যা শেষে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে টিউলিপ ফুল ফোটা শুরু হয়। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে ২০-২২ দিনেই ফুটে টিউলিপ ফুল।

তার মতে, টিউলিপ ফুলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শীতের গভীরতা। সাধারণত টিউলিপ ফুল চাষে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রার প্রয়োজন। আমাদের দেশে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীত মৌসুমে তাপমাত্রা কম থাকে বিধায় সেখানে টিউলিপ ফুল চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

flower

টিউলিপ ফুলের বাগান পরিচর্যা করছেন চাষি দেলোয়ার হোসেন

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের ফুল গবেষক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন খান বলেন, টিউলিপ সাধারণত শীতপ্রধান অঞ্চলের ফুল। আমাদের দেশে শীত মৌসুমে অনেকেই বাসাবাড়ির টবে বা শখের বশে টিউলিপ ফুলের চাষ করেন। তবে ফুল পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক। তবে দেলোয়ারের বাগানে টিউলিপ ফুল ফোটায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দেশে বাণিজ্যিকভাবে এখনও এই ফুল চাষ শুরু হয়নি। তবে শীত মৌসুমে আবহাওয়া ফুলের অনুকূলে থাকলে টিউলিপ ফুলের চাষ করা যায়। বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলোতে এই ফুল চাষ উপযোগী। দেশের কৃষকদের মনে নতুন করে টিউলিপ ফুল চাষের স্বপ্ন বুনে দিয়েছেন ফুল চাষি দেলোয়ার।

flower

দেলোয়ার হোসেন টিউলিপ ফুল বাগানের নাম দিয়েছেন ‘মৌমিতা ফ্লাওয়ারস’

গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাহবুব আলম বলেন, বর্তমানে উচ্চমূল্যে টিউলিপ ফুল আমদানি করে আমাদের দেশের চাহিদা মেটাতে হয়। সফল ফুল চাষি দেলোয়ারের বাগানে টিউলিপ ফুল ফোটায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। টিউলিপ ফুল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি অর্থনীতিতে দারুণ ছোঁয়া লাগবে।

এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।