মাদকের আস্তানা থেকে আ.লীগ নেতাসহ আটক ৩
বরিশাল নগরীর একটি মাদকের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জগলুল মোর্শেদ প্রিন্সকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার দুই বন্ধুকেও আটক করা হয়। আটক তিনজনের কাছে ৩১ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক পলি আফরোজ তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরীর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের পেছনের সড়কে (মেডিকেল কলেজ লেন) রিয়াজ স্টিল আলমারি তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ।
আটক জগলুল মোর্শেদ প্রিন্স নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কশিপুর এলাকার বাসিন্দা। আটক অন্য দুজন হলেন- মেডিকেল কলেজ লেন এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ স্টিল আলমারি তৈরির কারখানার মালিক আব্দুল্লাহ আল রিয়াজ (৪৩) ও চান্দুমার্কেট এলাকার বাসিন্দা মোসলেম মোর্শেদ সুজন (৪২)।
কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) টিপু সুলতান জানান, রিয়াজ স্টিল আলমারি কারখানার মধ্যে মাদক সেবন ও কেনাবেচা হচ্ছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৩১ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়। এছাড়া কারখানার মধ্যে কয়েকটি কক্ষ থেকে ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। আটক তিনজন মাদক সেবন ও কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, স্টিল আলমারি কারখানার মালিক আব্দুল্লাহ আল রিয়াজ নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। এর আগে প্রাইভেটকারে করে ফেনসিডিলের বিশাল একটি চালান বরিশালে নিয়ে আসার সময় রিয়াজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। জামিনে বেরিয়ে আবার মাদক ব্যবসা শুরু করেন রিয়াজ।
স্থানীয়রা আরও জানান, স্টিল আলমারি কারখানাটি মাদকের আস্তানা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। ওই কারখানায় প্রতিদিন ঠিকাদার, উঠতি নেতা, ছাত্র, যুবক, ব্যবসায়ীরাই আসা-যাওয়া করতো। কেনাবেচা হতো মাদক। কারখানার মধ্যে মাদক সেবনেরও ব্যবস্থা ছিল। মাদক ব্যবসা চালাতে সহায়তা করতেন ২৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জগলুল মোর্শেদের মত কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ফলে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, ইয়াবাসহ আটক তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এসআই টিপু সুলতান বাদী হয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সাইফ আমীন/আরএআর/এমএস