ফাঁকা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের অপেক্ষা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৫:৩৮ পিএম, ১৯ মে ২০২০

মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা। উপকূলজুড়ে তখন ৭ নম্বর বিপদ সংকেত। বরগুনার আকাশে কালো মেঘ, সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বরগুনা সদর উপজেলার পশ্চিম গোলবুনিয়া শিশু-কিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রটি খুলে বসে আছেন সহকারী শিক্ষক মো. জাকির হোসেন। সকাল থেকে আশ্রয়কেন্দ্রটি খুলে বসে থাকলেও আশ্রয় নিতে আসেনি কেউ। কেউ নিয়ে আসেনি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রও।

সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, গত দু’দিন ধরে প্রশাসনের নির্দেশে এভাবেই স্কুল খুলে আমাদের বসে থাকতে হচ্ছে আশ্রয়প্রার্থীদের অপেক্ষায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এখানে কেউ আশ্রয় নিতে আসেনি।

আম্ফানের প্রভাবে প্রাণহানী রোধে জেলায় ৬১০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে জেলা প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ব্যবস্থা করা হয়েছে ইফতারসহ রাতের খাবার এবং সাহরির। ইতোমধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে জেলার সকল আশ্রয়কেন্দ্র।

বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গত দু’দিন ধরে জেলাজুড়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কর্মী। ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে বরগুনা জেলা প্রশাসন। কিন্তু কিছুতেই টনক নড়ছে না বরগুনার সাধারণ মানুষের।

Borgumna

সরেজমিনে বরগুনা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, পোটকাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গোলবুনিয়া শিশু-কিশোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্র তিনটি একেবারে ফাঁকা পড়ে আছে। ফাঁকা কেন্দ্রগুলোতে পাহারার দায়িত্বে আছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওবং কর্মচারীরা।

পোটকাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মচারী রুহুল আমিন বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে গত দুদিন ধরে আমরা স্কুল খুলে রেখে পাহারা দিচ্ছি। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত এখানে কোনো আশ্রয়প্রার্থী আসেননি।

বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট আশ্রয়কেন্দ্রে দায়িত্বপালনরত একজন কর্মচারী জানান, আজ সকাল থেকে এ আশ্রয় কেন্দ্রটি খুলে বসে আছেন। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও এখন পর্যন্ত এই আশ্রয়কেন্দ্রে কেউ আশ্রয় নিতে আসেনি।

এ বিষয়ে বরগুনার ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) টিম লিডার জাকির হোসেন মিরাজ বলেন, বরগুনায় এই মুহূর্তে থমথমে আবহাওয়া বিরাজ করছে। বলা চলে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বমূহুর্তের আবহাওয়া এখন বরগুনায় বিরাজমান। এই সময়টি আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নিরাপদ এবং উপযুক্ত সময়। দেরি করে ফেললে তখন ঝড় শুরু হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে যেতে পারবে না।

Borgumna-1

তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রায় ৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবী কর্মী গত দু’দিন ধরে সাধারণ মানুষকে যথাসময়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছি না। আমাদের অনুরোধ থাকবে খুব দ্রুত যেন সাধারণ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেয়।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবেলায় গত তিন-চারদিন ধরে আমরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আমাদের প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যেই আমরা সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছি।

তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে বরগুনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে যা ঘূর্ণিঝড় আঘাতের পূর্ব-মুহূর্তের লক্ষণ। তাই বরগুনার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে প্রাণহানী রোধে তারা যেন সময়ক্ষেপণ না করে খুব দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেন।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।