শুভর মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১১:২২ এএম, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বেসরকারি একটি কোম্পানির টেরিটরি সেলস ম্যানেজার জাকারিয়া বিন হক শুভর (২৮) মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গ্রামবাসী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের তুষভান্ডার বাজারে শুভর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স আসে। এ সময় তার স্বজন ও গ্রামবাসী মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাসা থেকে শুভর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শুভর বড় বোন হাসিনা নাজনিন বিনতে হক শুক্রবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শুভর স্ত্রী শেহনীলা নাজ ও শাশুড়ি আছমা বেগমসহ অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে।

জাকারিয়া বিন হক শুভর বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘনেশ্যাম (এমসি মোড়) গ্রামে। শুভ দুই ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।

জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে তার প্রথম জানাজা শেষে বন্ধু ও স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঘনেশ্যাম (এমসি মোড়) গ্রামে মরদেহ পোঁছায়। এ সময় মরদেহ নিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের তুষভান্ডার বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন গ্রামবাসী। পরে রাতেই জানাজা শেষে শুভর মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতের বড় বোন নাজনীন বিনতে হক থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, বিয়ের পর আলাদা বাসায় স্ত্রী শেহনীলা নাজকে নিয়ে ভাড়া থাকতো শুভ। পরিবারের সঙ্গে শুভকে যোগাযোগ করতো দিত না নাজ। সে কোনোভাবে যোগাযোগ করলেও শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো তার স্ত্রী। ফলে শুভ সবসময় মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতো।

তিনি আরও দাবি করেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নাজের মা শুভর পরিবারকে না জানিয়ে তার ‘আত্মহত্যার’ সংবাদ ফোনে মামাকে জানায়। মৃত্যুর পর মা-মেয়ে মরদেহ দাফন, ময়নাতদন্ত বা কোনো কিছুতেই কোনো সহযোগিতা করেননি। এমনকি এসে খোঁজও নেননি। শুভ ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে- তার স্ত্রী এমন দাবি করলেও ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত তার স্বজনরা বেডরুমের মেঝেতে শুভর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]