পরিবারের দাবি, ‘সুঁইয়ের আঘাতে’ মৃত্যু, ডাক্তার বলল ‘দুধপানে’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৬:০২ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০২০

চাঁদপুর শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে তিন দিনের এক নবজাতকের মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। পরিবার দাবি, অনভিজ্ঞ নার্স দিয়ে একাধিক ইনজেকশন দেয়া এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে অনুমতি না দেয়ায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের পৌর সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় পদ্মা প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর পিতা মো. মিলন গাজী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৯ নভেম্বর মিলন গাজীর স্ত্রী রূপালী বেগমকে পদ্মা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টায় সিজারে তিনি একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। জন্মের পর থেকে শিশুটির ঠান্ডাজনিত সমস্যা দেখা যায়। এ সময় তারা প্রাইভেটে ডাক্তার দেখানোর জন্য বেশ কয়েকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা অনুমতি দেয়নি।

পরে শিশুটিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসমা আক্তারকে দেখানো হয়। তিনি শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকার উদ্দেশে বের হওয়ার সময় হাসপাতালের দুজন অনভিজ্ঞ নার্স বিউটি গাইন ও রেখা শিশুটিকে ক্যানোলা পরাতে গিয়ে তার শরীরে একাধিক সুঁইয়ের আঘাত করেন এবং তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালে কর্মরত নার্স বিউটি গাইন জানান, শিশুটিকে ক্যানোলা পরানোর জন্য রগ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এজন্য বেশ কয়েকবার তার সুঁইয়ের আঘাত লেগেছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তফা তানিম রায়হান ও ডা. রোকসানা আসমীর সামিয়া জানান, শিশুটি জন্মের পর শুধু ঠান্ডাজনিত সমস্যা ছিল। এছাড়া তার শারীরিক অবস্থা ভালোই ছিল। ক্যানোলা পরাতে গিয়ে রগ খুঁজে না পাওয়ায় নার্সরা একাধিক সুঁইয়ের আঘাত করেছেন। তবে সকালে দুধ পান করানোর সময় তার শ্বাসনালিতে দুধ চলে গেছে। তারপর থেকে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং সে মারা যায়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক মো. সফিউল্লাহ জানান, এখানে আমাদের কোনো ভুল চিকিৎসা দেয়া হয়নি। বরং শিশুটির ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে।

নজরুল ইসলাম আতিক/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।