বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র মুক্তি কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৫:২০ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২০

টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার আসামি সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে অতিরিক্ত প্রথম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সিকান্দর জুলকার নাইন এ আদেশ দেন।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম খান জানান, বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি তার বাবা এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান ও ভাই সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে সঙ্গে নিয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে উপস্থিত হন। এ সময় তারা আদালত কক্ষের ভেতরে অবস্থান নিয়ে আত্মসমর্পণের কাগজপত্র জমা দেন। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিকেল ৩টার দিকে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুনানিতে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম। আসাসিপক্ষে ছিলেন আব্দুল বাকী মিয়া, আরফান আলী মোল্লা, শামীম চৌধুরী দয়ালসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. রফিকুল ইসলাম।

সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ছোট ভাই।

এর আগে দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর বুধবার সকালের দিকে হঠাৎ জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন সহিদুর রহমান খান মুক্তি। এ সময় তার বাবা টাঙ্গাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান এবং ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বড় ভাই আমানুর রহমান খান রানা তার সঙ্গে ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামে দুজনকে ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে গ্রেফতার করে।

ওই দুই আসামির জবানবন্দিতে এ হত্যার সঙ্গে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা এবং তার অপর তিন ভাই পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি বের হয়ে আসে।

তার পরই আমানুর ও সহিদুরসহ চার ভাই আত্মগোপনে চলে যান। পরে আমানুর ২২ মাস পলাতক থাকার পর আদালতে আত্মসর্মপণ করেন। প্রায় দুই বছর কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। তার অপর তিন ভাই এখনও পলাতক। আদালতে এ হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]