ভূমি কর্মকর্তা আতিকের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি হত্যা?
কিশোরগঞ্জে ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ আতিকুর রহমানের মৃত্যুর সঠিক কারণ জনতে চায় তার পরিবার। এটি কি নিছক সড়ক দুর্ঘটনা, নাকি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে তা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে রোববার সংবাদ সম্মেলন করেছে আতিকের পরিবার।
শহরের একটি আবাসিক হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।
শহরের নগুয়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আবু সাহিদের ছেলে সৈয়দ আতিকুর রহমান আতিক ওই স্কুলের ৯০ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি জেলার ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আতিকের পরিবার দাবি করেন, সড়ক দুর্ঘটনা নয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পিঠের ব্যাগে থাকা টিফিন ক্যারিয়ারে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার কোমরের বেল্টটিও খোলা অবস্থায় পাশে পড়ে ছিল। তার মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায় ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে। সেটি অক্ষত ছিল। তবে তার মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি।
এছাড়া ঘটনাস্থলে অন্য একটি মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। এসব ঘটনা থেকে মনে হচ্ছে আতিককে হত্যা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ সময় আতিকের মা খায়রুন্নেছা বাসনা, মেয়ে সৈয়দা লিথিয়া রহমান, ভাই সৈয়দ আহসানুল আদিল, কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাসুদুল হাসান, শিপন করিম, শামস তুষার, কামরুল ইসলাম উজ্জ্বল, হামীম তোহা, পারভেজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, কিশোরগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে অফিসে যাওয়ার পথে গত ৬ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ-চামড়া সড়কের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মনসন্তোষ এলাকায় রাস্তার পাশে ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ আতিকুর রহমান আতিকের লাশ পাওয়া যায়।
প্রথমে এটি সড়ক দুর্ঘটনা মনে হলেও পরে রহস্যজনক মৃত্যু বলে প্রতিয়মান হয়। এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানায় ওই দিনই একটি মামলা দায়ের করা হয়।
করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম জানান, আমরা আতিকুর রহমান কিভাবে মারা গেছেন সেটি বের করার চেষ্টা করছি। শনিবার রাতে শাহ আলম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দ্রুত আতিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নূর মোহাম্মদ/এফএ/জেআইএম