পঞ্চগড়ে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

সফিকুল আলম
সফিকুল আলম সফিকুল আলম , জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ১২:১৩ পিএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

 

আগামী ২৮ ডিসেম্বর পঞ্চগড় পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে। প্রচার প্রচারণা ছাড়াও মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন বড় দুই দলের মনোনীত প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীরা। একপক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ করছেন। উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিট, সংঘর্ষ ও মামলা-হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা হতাহতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাকিয়া খাতুনের সমর্থকরা জানান, কোনো কারণ ছাড়াই বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মারমুখি আচরণ শুরু করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাকিয়া খাতুনের কর্মী-সমর্থক ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করছিলেন। তারা পৌর এলাকার মসজিদপাড়া মহল্লা দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির মেয়র প্রার্থী তৌহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনের সড়কে তার কর্মী-সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন।

এ সময় শোডাউনে অংশ নেয়া তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু মো. নোমান হাসানসহ কমপক্ষে ৭ জন আহত হন। রাতেই আহতদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়।

পরদিন শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা আবু মো. নোমান হাসান বাদী হয়ে বিএনপি মেয়র প্রার্থী তৌহিদুল ইসলামের ছেলে রাজিউর রহমান রাজু, ভাতিজা মাহাবুবুল আলম মন্টুসহ ৩৬ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের নামে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫০-৩০০ জনের নামে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে আড়ালে রয়েছেন অভিযুক্ত আসামিরা।

এদিকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র তৌহিদুল ইসলামের সমর্থকরা জানান, প্রচারণার শুরু থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাকিয়া খাতুনের সমর্থকরা আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ নানাভাবে প্রচারণায় বাধা ও হুমকি প্রদান করছেন। এ নিয়ে রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিক অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে মেয়র প্রার্থী জাকিয়া খাতুনের কর্মী-সমর্থক ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তৌহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এ সময় তারা ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দেয় এবং গালাগাল করেন। এর আগে তারা তৌহিদুল ইসলামের বড়ভাই তোফাজ্জল হোসেনের বাড়িসহ বিএনপির একাধিক নেতার বাড়ির সামনে গিয়েও গালাগাল করেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি প্রার্থীর নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকেও পাল্টা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের দলীয় নেতাকর্মী ও প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও হতাহতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তবে সাধারণ ভোটারদের দাবি, পঞ্চগড় জেলা শহর অন্য এলাকার তুলনায় বেশ শান্তিপূর্ণ। এখানে তেমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা দলীয় সংঘর্ষের ঘটনা নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক দেখা যায়। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে যেকোনো সংঘাত এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সজাগ দৃষ্টি আশা করেছেন সাধারণ ভোটারসহ পৌরবাসী।

জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু মো. নোমান হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার আমরা মোটরসাইকেল নিয়ে শহরে শান্তিপূর্ণভাবে শোডাউন করছিলাম। আমরা মসজিদপাড়া মহল্লা হয়ে মেয়র প্রার্থী তৌহিদুল ইসলামের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেখানে তার কর্মী-সমর্থকরা লাঠিসোটা নিয়ে চলন্ত অবস্থায় আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন।

এ সময় শোডাউনে অংশ নেয়া আমাদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে আমরা ৭ জন আহত হই। এ ঘটনায় আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি, মামলা করেছি। কিন্তু পুলিশ এখনও কাউকে আটক বা গ্রেফতার করেনি।

মেয়র প্রার্থী তৌহিদুল ইসলামের ভাতিজা যুবদল নেতা মাহাবুবুল আলম মন্টু বলেন, প্রচারণার শুরু থেকে মেয়র প্রার্থী জাকিয়া খাতুনের সমর্থকরা আমাদের নানাভাবে হুমকি প্রদান করছেন, বিভিন্ন এলাকায় আমাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছেন। এ নিয়ে রিটার্নিং অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কোনো কাজ হয়নি।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা মেয়র প্রার্থী তৌহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দেয় এবং গালাগাল করেন। তারা আমার বাড়ির সামনে গিয়েও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এখন তারাই আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন।

জেলা শহরের রাজনগর মহল্লার ভোটার আব্দুল ওয়াদুদ বাবু বলেন, পঞ্চগড় জেলা শহর অন্য এলাকার তুলনায় বেশ শান্তিপূর্ণ। এখানে তেমন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা দলীয় সংঘর্ষ নেই বললেই চলে। রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে এখানে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের সংঘাত চাই না। আশাকরি শান্তিপূর্ণভাবেই ২৮ তারিখের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সদর থানা পুলিশের ওসি আবু আককাস আহামেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনায় আবু মো. নোমান হাসান বাদী হয়ে ৩৬ জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরও ২৫০/৩০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, আসন্ন পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সেদিকে পুলিশের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশি টহল বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সফিকুল আলম/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]