পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বন্ধ বিদ্যানিধি পাঠাগার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২১

১৯৯১ সালে ১০৬ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু হয় ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ার বিদ্যানিধি পাঠাগারের। রামনাথ হাটের উল্টোপাশে প্রগতি সংঘ ক্লাব মাঠের পাশে গড়ে ওঠে পাঠাগারটি।

পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন এলাকার বিশিষ্ট কবি, রাজনীতিবিদ, সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হক বোমবোর্ড। শুরুতে এখানে বই ছিল প্রায় নয় শতাধিক।

এই এলাকায় পশু হাসপাতাল করা হলে পাঠাগারটি প্রগতি সংঘ অফিসে স্থানান্তর করা হয়। শুরুর দিকে পাঠকের সংখ্যা বেশ ভালো থাকলেও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় পাঠাগারটি। এখন শুধু খাতা-কলমে আছে এটি।

এলাকার তরুণ প্রজন্ম, বইপ্রেমী মানুষেরাও জানেন না এ পাঠাগার সম্পর্কে। কোনো কার্যক্রম না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে পাঠাগারটি।

নিবন্ধনকৃত বেসরকারি গ্রন্থাগার ‘বিদ্যানিধি পাঠাগার’ কমিটির সভাপতি মনোয়ার হোসেন ও পাঠাগারের গ্রন্থাগারিক জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিটি নিবন্ধিত বেসরকারি গ্রন্থাগারে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক স্কুলের মতো সরকারি স্কেলে একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার নিয়োগ দেওয়া আবশ্যক। তাহলে গ্রন্থাগারগুলো টিকে যাবে। মানুষ গ্রন্থাগারমুখী হবে। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদক ও খারাপ নেশা থেকে ফেরানোর কাজ সহজ হবে। গ্রন্থাগার হয়ে উঠবে দিন বদলের হাতিয়ার।

১নং রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু বলেন, রুহিয়ায় ব্যাপক রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে এবং ঘটছে। কিন্তু সেই তুলনায় গ্রন্থাগারের সংখ্যা বাড়েনি। গ্রন্থাগার আমাদের নিজের স্বার্থে ও প্রয়োজনেই।

২০নং রুহিয়া পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান অনিল কুমার সেন বলেছেন, সমাজের রূপরেখা বদলে দিতে পারে একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার। আজকের ছাত্ররাই আগামী দিনের জাতির কর্ণধার। তাদের মানসিক বিকাশের মাধ্যমে সমগ্র জাতির উন্নতি সম্ভব। তাই শহরের পাশাপাশি প্রতিটি গ্রামে-মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন।

রুহিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মামুনর রশিদ বলেন, রুহিয়া বিদ্যানিধি পাঠাগার বেশ পুরোনো। সেই তুলনায় গ্রন্থাগারের প্রসার বা বিকাশ ঘটেনি। গ্রন্থাগারকে পিপলস ইউনিভার্সিটি বা গণবিশ্ববিদ্যালয় বলা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, সেই অর্থে বিদ্যানিধি পাঠাগার উপেক্ষিত ও অবহেলিত।

ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান আম্বিয়া বেগম জানান, দেশে নিবন্ধিত বেসরকারি গ্রন্থাগার এক হাজার ৩৭৯টি। কমিটির সদস্যদের চাঁদা বা সংগৃহীত অনুদানে গ্রন্থাগারগুলো পরিচালিত হয়। এই গ্রন্থাগার আবারো চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই অবহিত করা হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, রুহিয়ার বিদ্যানিধি গ্রন্থাগারটি বন্ধ রয়েছে তা জানা ছিল না। গ্রন্থাগারটি চালুর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তানভীর হাসান তানু/এসএমএম/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।