উৎসবে মাতোয়ারা দিনাজপুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১১:২৪ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

চারদিকে লাল, হলুদ, কমলাসহ রঙিন পোষাক। মাথায় বাহারি ফুলের মুকুট। যাতে হলুদ, লাল, সাদাসহ হরেক রকমের ফুলের সমাহার। বাঙালী নারীর এমন পোষাকই বলে দেয় ‘বসন্ত এসে গেছে।’ ঋতুরাজ বসন্তের এই আমেজ শুধু নারীদের বসন ও সাজেই নয়, একই রূপে ধরা দিয়েছে পুরুষের দেহ-মনে। বসন্ত সাজে নারীদের পাশাপাশি তারাও উৎসবে মাতোয়ারা। লাল, হলুদ পাঞ্জাবী আর সাদা পায়জামায় সেজেছেন তারা।

রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বসন্তের প্রথম দিনে দিনাজপুর ঐতিহাসিক গোড়-এ শহীদ বড় ময়দানে চিত্র ছিল এমনই। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসন্তের আগমনে প্রকৃতির পাশাপাশি কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের পদাচারনায় মুখরিত ছিল এই ময়দান। আতঙ্ক, ভয় আর মহামারীকে জয় করে এ যেন বিজয়ের আনন্দ ছিল সবার চোখে-মুখে। বসন্তকে বরণ করে নিতে যেন মাতোয়ারা সবাই।

jagonews24

ময়দানে আসা রাইসা ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই ঘরে বন্দি। কলেজও বন্ধ। এখন তো করোনা নেই। তাই বাড়ি থেকে আসতে দিয়েছে। আজ অনেক দিন পরে মনে হলো যেন বন্দি জীবন থেকে খোলা আকাশের নীচে। অনেকের সাথে দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে। সব ভয়কে জয় করে আজ মনখুলে কিছুটা আনন্দ নিতে পারছি।’

প্রিয়াংকা রায় নামে আরেকজন বলেন, ‘আমি আজ অনেক দিন পর এখানে এলাম। প্রথমে একটু ভয় ছিল, তবে এখন আর নেই। আমার মনেই হচ্ছেনা যে করোনা নামে কিছু ছিল। বসন্ত যেন এসেছে সব ভয়কে দূর করে নতুন পৃথিবী, রঙিন পৃথিবী উপহার দিতে।

jagonews24

বসন্তকে আগমন জানাতে জেলার বিভিন্ন স্থানেই পালিত হয়েছে বসন্ত বরণ উৎসব। এমনি একটি উৎসব হয়েছে দিনাজপুর কালিতলা এলাকায়। অনলাইন বেসিক দিনাজপুর গার্লস ক্লাব আয়োজিত বসন্ত বরণ মেলায় ছিল সব বয়সী নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড়।

একইদিন বিকেলে মেলায় কারুকার্য খচিত পণ্য সামগ্রী ও বাহারি রকমের খাবারের আয়োজন নিয়ে হাজির হওয়া স্টলগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়। শুধু কেনাবেচা নয় মেলাটা ছিল শিক্ষণীয় এমনটাই দাবি আয়োজকদের।

দিনাজপুর গার্লস ক্লাবের এডমিন আফরিন মৌ বলেন, ‘দুই দিনের এ মেলায় আমরা দিনাজপুরসহ আশপাশের মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। আশানুরুপ বিক্রয় করতে সক্ষম হয়েছে আমাদের সেলাররা। কেনাবেচার পাশাপাশি সকলের সামনে নিজেকে প্রতিস্থাপন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন তারা।’

jagonews24

আগত দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের মধ্যে ফাতেমা বেগম জানান, ‘বসন্তকে বরণ করে নিতে এ ধরনের মেলার আয়োজন খুবই ভাল হয়েছে। এক প্রকারের ঘরোয়া পরিবেশে এমন আনন্দ পেলাম প্রায় দীর্ঘদিন পর।’

আয়োজক কমিটির সদস্য আফরোস মাহমুদ বন্না বলেন, ‘২৫ হাজার সদস্যের পরিবারের এ গ্রুপটি নারী উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।