দিনাজপুর সদর আওয়ামী লীগের বেহাল দশা
দেশব্যাপী চলমান পৌরসভা নির্বাচনে দিনাজপুর জেলার পাঁচ পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী পর্যালোচনায় নৌকা প্রতীকের বেহাল দশা ফুটে উঠেছে। এ জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দলকে।
জেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তঃকোন্দলের কারণে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীর।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন, অন্তঃকোন্দলে দিন দিন জেলা আওয়ামী লীগ থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন দুঃসময়ের ত্যাগী কর্মীরা। আবার অনেকে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত।
অভিযোগ রয়েছে, পৌর নির্বাচনে অনেক নেতাকর্মীকে এবার মাঠে দেখা যায়নি। যারা নেমেছিলেন তারাও করেছেন শুধু রুটিন ওয়ার্ক।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের অক্টোবরে অসুস্থ হওয়ার পর মারা যান শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম। এরপর পুরো দায়িত্ব পড়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চনের ওপর। তিনিও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভালোবাসা ও বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হন। তবে তাকে নিয়ে চলে ষড়যন্ত্র।
সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের অহেতুক মামলায় কাঞ্চনসহ তার অনুসারীদের নামে চার্জশিট দেয়া হয়। এছাড়া আধিপত্য ধরে রাখতে ২০১৯-২০ সাল থেকে তিনিসহ ত্যাগীদের রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়। মূলত কাঞ্চন জেলা আওয়ামী লীগেরও নির্বাহী সদস্য। এছাড়াও সদর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি। তিনিসহ ত্যাগীদের দূরে রাখতেই একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
দিনাজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগে ২০ বছর ধরে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা নেতা মানিক রঞ্জন বোশাক জানান, দিনের পর দিন অন্তঃকোন্দলের কারণে দুঃসময়ে দলের কাণ্ডারি ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা দল থেকে বিতাড়িত।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে অদ্যাবধি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কাঞ্চনকে দল থেকে বিতাড়িত করতে কিছু বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিই মূলত দায়ী। এরই অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের ২১ মার্চ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে হত্যা মামলায় তাকে জড়িত করা হয়। অথচ সেই দিন তিনি দিনাজপুর প্রেসক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দিকে তার নাম না থাকলেও মামলার এজাহারে তার নামসহ আরও ২২ ত্যাগী নেতাকর্মীকে যুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও চার নম্বর শেখপুরা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, দিনাজপুরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি বলে যদি কেউ থাকে তিনি বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন। তিনি দিনাজপুর সদর ও পৌর বিএনপি-জামায়াতের শক্ত অবস্থানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে সদর আসন থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একঝাঁক সৈনিক তৈরি করেছিলেন। দিনাজপুরে আওয়ামী লীগকে করেছিলেন জনপ্রিয়ও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের প্রবীণ এক নেতা জানান, দিনাজপুরে আওয়ামী লীগকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করা ও সুদৃঢ় ভিত্তিতে নিয়ে যাওয়ার পেছনের অবদান ছিল বিশ্বজিৎ কুমার ঘোষ কাঞ্চনের। পৌর এলাকা থেকে শুরু করে সদরের সর্বক্ষেত্রে ছিলেন কর্মীবান্ধব নেতা। সুবিধা-অসুবিধায় সবার পাশে থাকতেন তিনি। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন থেকে শুরু করে প্রত্যেক দলের নেতাকর্মীর সঙ্গে ছিল তার আন্তরিকতা।
দলীয় অন্তঃকোন্দল ও পৌরসভা নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ নিয়ে কেউ মুখ না খুললেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নেতাকর্মী বলেছেন, আমাদের অন্তঃকোন্দলের সুযোগ নিয়ে প্রশাসনও মাথার ওপরে ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। বিএনপি রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। মন্ত্রী-এমপিরা এলাকায় না থাকলে অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে তৃণমূলের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর। আমরা অভিভাবক চাই।
এমদাদুল হক মিলন/এসজে/এএসএম