ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রীর অভিযোগ হত্যায় অংশ নেন মেম্বারও
কক্সবাজারের পেকুয়ায় নেজাম উদ্দিন (৩৫) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীকে বুকে গুলি করার পর শরীরের বিভিন্ন অংশে ছয় কোপ দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দুর্বৃত্তরা।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বারবাকিয়া ইউপির পূর্ব ভারুয়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নেজাম উদ্দিন বারবাকিয়া পূর্ব ভারুয়াখালী এলাকার মৃত ছবির আহমদের ছেলে ও বারবাকিয়া বাজারের খুচরা কাঠ ব্যবসায়ী।
নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী শামিনা আক্তার বলেন, তার মামা রহিমদাদের বসতভিটা সন্ত্রাসী কায়দায় দখল করে নেন বারবাকিয়া পাহাড়িয়াখালী এলাকার ডাকাত জাফর আলমের ছেলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীর লোকজন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার মারধরের শিকার হয় রহিমদাদের পরিবার। মামার অসময়ে ভাগনি জামাতা হিসেবে তার স্বামী বিভিন্ন সময় সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর। এর জেরে বিভিন্ন সময় তাকে হত্যার হুমকি দিতেন। সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১টার দিকে তার স্বামীকে ঘর থেকে ডেকে নেন জোবাইর নামের একজন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম ও তার বাবা জাফর আলমসহ তার বাহিনীর সদস্য জসিম উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, শফিউল আলম, গিয়াস উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, ওসমান, ছাবের, হেলাল, বেলাল উদ্দিন, সাহাব উদ্দিনসহ সংঘবদ্ধ আরও বেশ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি গুলি করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির আওয়াজ শুনে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে পান জাহাঙ্গীর ও তার লোকজন স্বামীর পুরো শরীরে কোপাচ্ছেন।
সন্ত্রাসীরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করে চলে যাওয়ার পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় স্বামীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে সালমা হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণসহ ৪০টির বেশি মামলা রয়েছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) কানন সরকার জানান, খবর পেয়ে শনিবার (২৪ এপ্রিল) সকালে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
সায়ীদ আলমগীর/এসআর/জিকেএস