শিক্ষকদের হয়রানি : পাটগ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ঘেরাও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৭:১২ পিএম, ০৪ মে ২০২১

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষকের তথ্য হালনাগাদ না করে হয়রানির অভিযোগে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৪ মে) দুপুরে তাকে কার্যালয়ে ঘণ্টাব্যাপী অবরুদ্ধ করে রাখেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এ সময় তারা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ও ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করেন। ঘোষিত গ্রেড অনুযায়ী দেশের অন্যান্য উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার মাধ্যমে সফটওয়্যার আইবাস প্লাস ও পে ফিক্সিশনে তথ্য হালনাগাদ করে বেতন উত্তোলন করেন। তথ্য হালনাগাদ করতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে জমা দেন পাটগ্রাম উপজেলার শিক্ষকরা।

jagonews24

শিক্ষকদের অভিযোগ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তাদের কাছে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেয়ায় দুই কার্যালয়ের মধ্যে ফাইল চালাচালি করে শিক্ষকদের হয়রানি করা হয়। তথ্য হালনাগাদ না হওয়ায় শত শত শিক্ষকের বেতন ও ঈদের বোনাস উত্তোলনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামকে ঘণ্টাব্যাপী অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরপর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। পরে তারা উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান।

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন ও ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের নিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী যৌথ আলোচনাসভা করেন পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল। সভা শেষে ঈদের আগেই শিক্ষকদের বেতন-বোনাস উত্তোলনের বিষয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাকে কাজ করতে বলেন তিনি।

ছাট-পানবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম প্রামানিক লিবন বলেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ না করে হয়রানি করে আসছেন। তাই ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা তাকে অবরুদ্ধ করেন।

jagonews24

২ নম্বর ভোটহাট খাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না। শুধু শিক্ষকদের না, তিনি মানুষকে মানুষ মনে করেন না। টাকাকে প্রাধান্য দেন।তিনি।’

ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে পাটগ্রাম উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে কোনো টাকা-পয়সা নেয়া হয় না। শিক্ষকদের এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) দিয়ে টেস্ট করেছি। আইবাস ম্যানেজমেন্টের সমস্যা আছে। চেষ্টা করা হচ্ছে ঠিক করার জন্য ।’

মো. রবিউল হাসান/এমএসএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]