চাঁদা চাওয়ায় মাদকদ্রব্যের ছয় সদস্যকে গণধোলাই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ১১:০৪ পিএম, ১৯ মে ২০২১

কুমিল্লার দেবিদ্বারে চাঁদাবাজির অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ছয় সদস্যকে গণধোলাই দিয়েছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অভিযানে গিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় স্থানীয়রা ভুয়া ডিবি পুলিশ সন্দেহে তাদের গণধোলাই দেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বুধবার (১৯ মে) উপজেলার জাফরগঞ্জ গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন গোদারাঘাট মীর বাড়ির বজলু মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কুমিল্লা কার্যালয়ের পরিদর্শক আবু বকর ছিদ্দিক, সহকারী উপ-পরিদর্শক উত্তমবরণ দেবনাথ, সহকারী উপ-পরিদর্শক আবুল কাসেম, সিপাই মো. শরিফুল ইসলাম, মিঠুন চন্দ্র রবি দাস, গাড়ি চালক মো. রফিকুল ইসলামসহ ছয় সদস্যের একটি দল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের স্টিকার লাগানো জিপ নিয়ে জাফরগঞ্জ বাজারে যান। তারা জাফরগঞ্জ গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন গোদারাঘাট বজলু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে বজলু মিয়ার ছেলে মো. রাসেল ইসলামের (২৭) খোঁজ করেন। তাকে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মা রাফিয়া বেগম (৬৫) ও তার বোন ময়না আক্তারকে (২৯) ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

এতে উপস্থিত লোকজন তাদের ভুয়া ডিবি পুলিশ মনে করে গণধোলাই দেন। এসময় তিনজন পালিয়ে যান। পরে জনরোষ থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা জাফরগঞ্জ গ্রামের পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে নিয়ে যান। ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর কারণে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়িতেই ছিলেন। বিষয়টি তিনি দেবিদ্বার থানা পুলিশকে জানালে ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল এএসপি মো. আমিরুল্লাহ ও দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আরিফুর রহমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে আটককৃতদের হেফাজতে নেন।

jagonews24

রাসেলের বোন ময়না বলেন, ‘তারা কখনো ডিবি, কখনো সিআইডি আবার কখনো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোক বলে দাবি করেন। আমার ভাই মাদকের সঙ্গে জড়িত না হলেও নিজেরাই ঘরে কিছু মাদক রেখে সেটি উদ্ধার করে আমাদের চাপ দিতে থাকেন। এ ছাড়া ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তা দিতে অপারগতা দেখালে অনেক বাগবিতণ্ডার পর সাত হাজার টাকায় নেমে আসে। টাকা না দিলে আমাদের তুলে নেয়ারও হুমকি দেন। পরে ঘরে থাকা ছয় হাজার টাকা দিলে তারা টাকা ও মাদক নিয়ে দ্রুত চলে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।’

দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল এএসপি মো. আমিরুল্লাহ বলেন, ‘কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ছয় সদস্যের একটি টিম জাফরগঞ্জে অভিযানে যান। এসময় স্থানীয়দের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা এলে উদ্ধারকৃতদের হস্তান্তর করা হবে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কুমিল্লার পরিদর্শক ব্রজলাল চাকমা বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে যাইনি। ডিডি স্যার গেছেন। তাই বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।’

এএইচ/ইএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]