বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবর্জনার স্তূপ, মাঠ যেন গোচারণ-ভূমি
করোনা সংকটে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দফায় দফায় লকডাউন ও বিধিনিষেধে দীর্ঘদিন ধরে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ভেতরে-বাইরে জমছে ময়লা আবর্জনা। স্কুল আঙ্গিনা পরিণত হয়েছে গোচারণ ভূমিতে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরেও নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার দক্ষিণ ভবানিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের বারান্দায় কয়েকটি গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। ভবনের ভেতরে বাহিরে ময়লা আবর্জনার স্তূপ। একই এলাকার নলজুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় ভবনের ভেতরে-বাইরের অবস্থাও নাজুক। স্যাঁত স্যাঁতে ভবন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। হঠাৎ করে এসব প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে শিশুরা পড়বে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার দশ উপজেলার এক হাজার ৪১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি বছর প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত তিন লাখ ১৯ হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে এক লাখ ৫৯ হাজার ৭৪জন ছাত্র ও এক লাখ ৬০ হাজার ৫৩৯ জন ছাত্রী। এদের মধ্যে দুই হাজার ৩১০ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুও রয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার ৩৪ টি সরকারি-বেসরকারি কলেজ ও, ২৭৯ টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮৯ মাদরাসা ৩৯ কারিগরি স্কুল-কলেজ রয়েছে। যাতে প্রায় পাঁচ লাকের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার চন্দনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোজিন আরা রিটা বলেন, পরিষ্কার করে রেখে আসলেও অনেকেই মাঠ ব্যবহার করে ধান শুকাতে চায়। নিষেধ করলে স্থানীয়রা মানতে চায়না। এছাড়া স্কুলের নৈশ প্রহরী নেই।
দুর্গাপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্কুলগুলো গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষকরা আসেন না।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বিপথগামী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। মোবাইলে গেইম খেলায় আসক্ত হয়ে যাচ্ছে তারা। মা-বাবার সঙ্গে ভালো আচরণ করছে না। করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক অভিভাবক মেয়েদের বাল্য বিবাহ দিয়ে দিচ্ছেন।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক যতীন সরকার বলেন, এ পরিস্থিতিতে সরকারকে এখনি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কম শিক্ষার্থী দিয়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ক্লাস চালু করা যেতে পারে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষাকে চালু রাখতে হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমরা সরকারের নির্দেশ মতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের এসাইনমেন্ট দিয়ে আসছি। সপ্তাহ শেষে আবার উত্তরপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের সাথে একধরণের যোগাযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষক প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের বাড়িতে যাচ্ছেন।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, কয়েকদিন আগেও ছাত্র শিক্ষকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করেছি। শিক্ষকগণ প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা যাতে শিক্ষকরা পালন করেন সেটাও মনিটরিং করা হচ্ছে।
এইচ এম কামাল/আরএইচ/জিকেএস