শতবর্ষী মানিকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

নূর মোহাম্মদ
নূর মোহাম্মদ নূর মোহাম্মদ কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:৩৪ পিএম, ২০ জুন ২০২১

কিশোরগঞ্জের শত বছরের প্রাচীন বিদ্যালয় মানিকদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও এ বিদ্যালয়ে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।

jagonews24

অন্যান্য শ্রেণিকক্ষে জায়গা না হওয়ায় বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেডের ঘরে ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়টি আবার বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষার অন্যতম একটি কেন্দ্র। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের ওই পরিত্যক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসেই পরীক্ষা দিতে হয়। অথচ কাগজে এটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত।

জানা যায়, জেলার ভৈরবের গজারিয়া ইউনিয়নে ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর বর্তমান শিক্ষার্থী ৩২৯ জন। আর এখানে শিক্ষক রয়েছেন সাতজন।

jagonews24

সরেজমিনে এ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ২০১০ সালে বিদ্যালয়ের একতলা একটি ছোট বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়। সেখানে মাত্র দুটি কক্ষে চলে পাঠদান। এর আগে ১৯৯০ সালে নির্মিত আরেকটি একতলা ভবনে দুটি কক্ষে ক্লাস নেয়া হতো। একই ভবনে রয়েছে অফিস ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার।

দুই ভবনের মাঝখানে রয়েছে ছোট একটি পুরানো ও জরাজীর্ণ টিনের ঘর। এতে রয়েছে দুটি কক্ষ। এর চালার টিন ফুটো হয়ে গেছে। বারান্দার টিন, কাঠ ও দরজা-জানালা সবই ভাঙা। এছাড়া দুই কক্ষের মেঝেতে পড়ে রয়েছে কিছু অকেজো আসবাবপত্র।

jagonews24

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন জানান, ‘আমি ২০২০ সালে এ বিদ্যালয়ে নতুন যোগদান করি। ছয় বছর আগে টিনের ঘরটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও জায়গা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে দীর্ঘদিন সেখানে ক্লাস নিতে হয়েছে। তবে করোনায় বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা হয়নি ঘরটিতে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে বার্ষিক সমাপনী পরীক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ এ ঘরে বসে পরীক্ষা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। নতুন ভবন নাহলে করোনার পর আবারও এখানেই পরীক্ষা নিতে হবে।’

ঘরটি ভেঙে এখানে একটি বিল্ডিং নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘এ ক্লাস্টারে ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ সেন্টারে সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের এ পরিত্যক্ত ভবনে বসেই পরীক্ষা দিতে হয়।’

jagonews24

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রদীপ সূত্রধর জানান, পরিত্যক্ত ঘোষণা করা ঘরটি ভেঙে নতুন ভবন তৈরি না করলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার বনিক বলেন, ‘পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নেয়া বা পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ ভবন অবশ্যই ভেঙে ফেলতে হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভৈরব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে আজই নির্দেশ দিচ্ছি। ওই স্কুলে নতুন ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন।’

এসএমএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]