কর্মসূচি দিয়েও মাঠে নামতে না পেরে অবরোধের হুমকি কাদের মির্জার
নোয়াখালীর বসুরহাটে একইস্থানে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পৌর এলাকায় এ বিধিনিষেধ জারি করা হয়। ১৪৪ ধারা বাস্তবায়নে এদিন সকাল থেকে কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন।
ফলে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে কোনো পক্ষকেই মাঠে নামতে দেখা যায়নি। তবে বসুরহাট পৌর মেয়র কাদের মির্জা কর্মসূচি করতে না দেয়ায় ফেসবুক লাইভে এসে হরতাল-অবরোধ দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তার প্রতিপক্ষরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে পাল্টা অবরোধের হুমকি দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিয়াউল হক মীর জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে সহিংসতার আশঙ্কায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ১৪৪ ধারাকে কেন্দ্র করে বসুরহাটে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সরোজ রতন আচার্য জাগো নিউজকে জানান, অতিরিক্ত ২৫ জনসহ দেড় শতাধিক পুলিশ কর্মরত রয়েছে।
এছাড়া ১৬ জন র্যাব ও ১২ জন গোয়েন্দা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর এলাকায় মাইকিং করে জনগণকে সচেতনও করা হচ্ছে।

এর আগে বুধবার (২৩ জুন) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু ও মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা আরিফুর রহমান বসুরহাট রূপালি চত্বরে পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ঘোষণা করেন। ঘোষণার পর উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নে ফখরুল ইসলাম রাহাত অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদমান দ্বন্দ্বের জেরে বুধবার রাতে কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্ছা রাসেলের নেতৃত্বে তার বাসায় হামলা করা হয়েছে। এসময় তারা অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই তার মা রোকেয়া বেগমের নেতৃত্বে বসুরহাট বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিলও বের হয়।
মেয়র আবদুল কাদের মির্জার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিয়ে সিরাজুল নামে একজন জানান, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো লোক জড়িত না। পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য তারা এসব করছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে।
ইকবাল হোসেন মজনু/এএএইচ/জিকেএস