মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ ভেঙে দোকানঘর নির্মাণ!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৩:৪০ পিএম, ২৮ জুন ২০২১

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কেশাইল নূরানীয়া দাখিল মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ ভেঙে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সুপারের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বদলগাছী-আক্কেলপুর সড়কের পাশে কেশাইল বাজারে অবস্থিত কেশাইল নূরানীয়া দাখিল মাদরাসা। ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসাটি ২০০২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। ১৬ জন শিক্ষকসহ মোট ২০ জন স্টাফ রয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছাত্র-ছাত্রী ১৫০ জন।

করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসা বন্ধ থাকার সুযোগে রাস্তা সংলগ্ন তিনটি শ্রেণিকক্ষ ভেঙে সাতটি দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, সবুজ নামের একজন তাদেরকে এই শ্রেণিকক্ষ ভেঙে দোকানঘর নির্মাণের কাজ দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবুজ ওই মাদরাসার কেউ নন। তিনি কীটনাশকের দোকান করার জন্য শ্রেণিকক্ষটি ভেঙে দোকানের উপযোগী করছেন।

বাজারের স্থানীয় দোকানিরা জানান, শ্রেণিকক্ষ ভেঙে মাদরাসার সুপার তার নিজের স্বার্থে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। মাদরাসার বিদ্যুৎবিল পরিশোধ করা হয় না। কয়েকদিন আগে বিদ্যুৎ অফিসের লোক এসে সংযোগ কেটে দিয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মাদরাসার এক শিক্ষক বলেন, ‘মাদরাসার নিয়ম শৃঙ্খলা বলতে কিছু নেই। শ্রেণিকক্ষ ভাঙার ব্যাপারে অনেকবার আমরা নিষেধ করেছি। কিন্তু কে শোনে কার কথা। করোনা ভাইরাসের কারণে মাদরাসা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়েছে অধ্যক্ষ।

এ ব্যাপারে মাদরাসার সুপার মোহসীন আলীর সঙ্গে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। সাংবাদিক পরিচয়ে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া মাদরাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, ‘যে তিনটি কক্ষ ভাঙা হয়েছে সেগুলো জেলা পরিষদের জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই জায়গাটি লিজ নেয়ার জন্য আমরা জেলা পরিষদে আবেদন করেছি। সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য দোকানগুলো সাবলিজ হিসেবে দেয়া হবে। যেহেতু এখনো জেলা পরিষদ থেকে কোনো কাগজপত্র আমাদের দেয়া হয়নি। এজন্য দোকানঘরগুলো ভাড়া দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া মাদরাসার জায়গায় যে তিনটি কক্ষ ভাঙা হয়েছে, সেগুলো আবারও নির্মাণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের ব্যাপারে সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান অর্থ সঙ্কট। তবে অর্থ সঙ্কটের বিষয়টি কখনো সুপার আমাদের জানাননি। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের তিনি প্রধান। এর দায়ভারও তার।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আব্বাস আলী/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।