চিরচেনা সেই ব্যস্ততা নেই চাঁদপুরের কামারশালায়
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চিরচেনা সেই ব্যস্ততা নেই চাঁদপুরের কামারপল্লীতে। কারোনার প্রকোপে চলমান লকডাউনে বন্ধ কামারশালাগুলো। ঈদুল আজহা ঘিরে এ পেশার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা থাকলে সেটি গুড়েবালিতে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুরে দেড় শতাধিক দোকানে ৫০০’র অধিক কামার রয়েছে। এছাড়া উপজেলা শহরসহ গ্রামীণ বিভিন্ন হাট-বাজারে কামাররা ছুরি, বঁটি, দা, চাপাতিসহ কোরবানিতে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি তৈরি করেছেন। কিন্তু লকডাউনের কারণে তাদের কপালে পড়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। ঋণ নিয়ে এসব মালামাল প্রস্তুত করলেও নেই বেচা-বিক্রি।
চাঁদপুর শহর ও হাজিগঞ্জ বাকিলার বিনয় কর্মকার, রতন কর্মকার, রঞ্জিত কর্মকারসহ অনেকেই জানান, পুরো বছর দোকান খোলা থাকলেও কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকেন সবাই। এ সময় সবচেয়ে বেশি বেচা-কেনা হয়। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিক্রি ভালো হচ্ছে না। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের সংখ্যা অনেক কম।
সরেজমিনে বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, এ বছর কোরবানির কাজে ব্যবহৃত বঁটি প্রকারভেদে ৩০০-৮০০ টাকা, দা ৩০০-৬০০ টাকা, বড় আকৃতির ছুরি ৪০০-১০০০ টাকা, ছোট আকৃতির ছুরি ৫০-২০০ টাকা এবং চাপাতি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-১২০০ টাকায়।

জয়নাল আবেদীন নামের এক ক্রেতা জানান, মাঝারি সাইজের একটি চাপাতি কিনতে এসেছি। ৬০০ টাকা দাম চেয়েছে আমি ৪০০ টাকা বললে দোকানি দেননি। দোকানিরা অনেক বেশি দাম চাচ্ছেন।
কামারশালার এক শ্রমিক বলেন, চায়না থেকে আমদানি করা সরঞ্জামাদির কারণে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। ইতোমধ্যে অনেকেই এ ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যবসায় হাত দিয়েছেন।
চাঁদপুর বিসিক শিল্প নগরীর সহকারী মহাব্যবস্থাপক একে এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলে, নির্দিষ্ট স্থানে কামারপল্লী নির্ধারণের কোনো আবেদন আমরা পাইনি। তারা যদি লিখিত আবেদন করে তাহলে বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
তিনি আরও বলেন, মূলত চায়না থেকে আমদানি করা পণ্যগুলোর মান আমাদের দেশীয় পণ্যের চেয়ে কিছুটা ভালো মানের। দেশীয় তৈরি পণ্যের মান বৃদ্ধি করলে মানুষের কাছে কামারদের তৈরি এসব সরঞ্জামাদির চাহিদা বাড়বে।
নজরুল ইসলাম আতিক/আরএইচ/এমএস