বিদ্যুতের তারে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

কমিটিতে বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান ও উপ-পরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) গোলাম মোস্তফা।

তিনি বলেন, দু’মাস আগে ওই খুঁটি সরাতে গেলে মার্কেটের মালিক আবদুর রহিম বাধা দেন। ফলে খুঁটিটি সরানো হয়নি। দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ সব খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।

তবে জিএমের বক্তব্য ‘সত্য নয়’ দাবি করে স্থানীয়রা বলছেন, এ ঘটনার জন্য পল্লী বিদ্যুতের লোকজনই দায়ী। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ এ খুঁটি সরাতে কর্মকর্তাদের বারবার অনুরোধ করলেও তা অনুরোধ কানে তোলেননি।

জানা গেছে, দীর্ঘ ৩৫ বছর আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এখানে খুঁটি স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়। বছর দশেক আগে এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। কিন্তু এতো দিনেও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি তারা। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেননি।

বিদুৎস্পৃষ্টে নিহত আবদুর রহিমের শ্যালক মো. মোরশেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, অনেকবার পল্লী বিদ্যুৎকে খুঁটি সরাতে বলেছি। তারা সরায়নি। এখন চারটা তাজা প্রাণ ঝরে গেল। এর দায়ভার কে নেবে? তিনি স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি করেন।

সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মৃতদের তালিকা পাঠিয়েছি। সেখান থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

গত শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শীলমুদ গ্রামে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে একই বাড়ির চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শীলমুদ গ্রামের শহীদ মাওলানা বাড়ির আবুল বাশারের ছেলে আবদুর রহিম (৫৫), উজির আলীর ছেলে ইউসুফ (৪৮), নূর হোসেনের ছেলে মো. সুমন (২৮) ও মো.শহীদ উল্লাহর ছেলে মো. জুয়েল (১৬)।

ইকবাল হোসেন মজনু/এমকেআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]