বগুড়ায় শতবর্ষী বিদ্যালয় রক্ষায় মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

বগুড়ার শাজাহানপুরে জমি দান করেও রহিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষা করতে পারছেন না স্থানীয়রা। শতবর্ষী বিদ্যালয়টি রক্ষায় শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

মানববন্ধনে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক আওরঙ্গজেব, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক মোহসিন আলী, ইউপি সদস্য তাজুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন।

এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত করা হলে রহিমাবাদ গ্রামের শিশুরা এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে না। সেইসঙ্গে রহিমাবাদ এলাকা থেকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। অথচ বিদ্যালয়ের জমি ও ভবনের মূল্য বাবদ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রায় পাঁচ কোটি টাকা পাচ্ছে। সেই টাকা দিয়ে স্ক্যাচমেন্ট এরিয়ার মধ্যে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা যায়। তারপরও এলাকাবাসী বিদ্যালয়টিকে নিজ এলাকায় ধরে রাখতে ১৪ শতক জমি দান করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সে দিকে অগ্রসর না হয়ে অজ্ঞাত কারণে স্কুলটি অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

মানববন্ধনে আসা আড়িয়া-রহিমাবাদ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক (অব.) আওরঙ্গজেব জানান, বিদ্যালয়টি বালিকা বিদ্যালয়। সেখানে অন্য একটি বিদ্যালয় সমন্বয় করা ঠিক হবে না। এছাড়া মহাসড়কে অধিগ্রহণের কারণে তার বিদ্যালয়টি সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে নিজস্ব শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর অন্য স্কুল সমন্বয় করলে তা হবে বিদ্যালয়টিকে গলা টিপে হত্যার শামিল।

উল্লেখ্য, এলেঙ্গা-হটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে শাজাহানপুরের পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে। এরমধ্যে রহিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ জমি অধিগ্রহণ হওয়ায় সেখানে বিদ্যালয় ভবন তৈরির সুযোগ নাই। ফলে ১৯২৫ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি নিজ এলাকায় ধরে রাখতে স্থানীয়রা ১৪ শতক জমি দান করার ঘোষণা দেন। তারপরও অজ্ঞাত কারণে ২৮ জুন ২০২১ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সভায় বিদ্যালয়টিকে তার স্ক্যাচমেণ্ট এরিয়ার বাইরে এক কিলোমিটার দক্ষিণে আড়িয়া-রহিমাবাদ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমন্বয় করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আহমেদ জানান, বিদ্যালয়টি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে। বিদ্যালয়টি কোথায় স্থানান্তর করা হবে সেটা নির্ধারণ করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]