চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য সহকারীকে মারধরের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ০৮:৩৩ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঝালকাঠিতে করোনার টিকাদান কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য সহকারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার খানের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্বাস্থ্য সহকারী এনায়েত করিম (৩৫)। তিনি বর্তমানে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মী এনায়েত করিম বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাকে মারধর করে শুধু লাঞ্ছিতই করেননি, সিরিঞ্জ দিয়ে পেট ফুটো করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। আমরা মানুষের জন্য ঝুঁকি নিয়ে করোনার টিকা দিতে গিয়ে অনেক কষ্ট করি। আজ টিকা দিতে গিয়ে আমাকে চেয়ারম্যানের হাতে লাঞ্ছিত হতে হলো।’।

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন ও হেমায়েত উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে সকাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে টিকা দেওয়ার কাজ করছিলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেখানকার নারী বুথে স্বাস্থ্য সহকারী এনায়েত করিমকে দায়িত্ব দেওয়ায় সকালেই স্বাস্থ্য পরিদর্শক মাকসুদা বেগমের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং তর্ক করেন চেয়ারম্যান আবুল বাশার খান। দুপুর আড়াটার কিছু আগে ওই স্বাস্থ্য সহকারী ভিড় কমাতে নারী বুথকে দুটি ভাগে ভাগ করেন। দুপুরে চেয়ারম্যান আবুল বাশার টিকাকেন্দ্রে এসে দুটি নারী বুথ দেখে উত্তেজিত হয়ে স্বাস্থ্য সহকারী এনায়েত করিমকে গালাগাল শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে মেঝেতে ফেলে দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য টিকাদান বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল ৪টায় এনায়েত করিমকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তার সহকর্মীরা।

স্বাস্থ্য পরিদর্শক মাকসুদা বেগম বলেন, ‘চেয়ারম্যান শত শত মানুষের সামনে আমার কর্মীকে মারধর করেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। যথাযথ বিচার না হলে আমরা পরবর্তী সময়ে কোনো টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেবো না।’

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার খান বলেন, ‘স্বাস্থ্য সহকারী এনায়েত করিম আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন। আমি তাকে কোনো মারধর করিনি। টিকা কর্মসূচি বানচাল করে তিনি আমার ইউনিয়নের বদনাম করতে চান।’

জেলা সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালি জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। এছাড়া থানায়ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান জানান, অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আতিকুর রহমান/এফআরএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]