ঝিনাইদহের ‘ভিআইপি এলাকায়’ দুর্গন্ধে নাজেহাল পথচারীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ১০:২০ এএম, ১১ অক্টোবর ২০২১

ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ার অভিজাত এলাকার মাহাবুব উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সড়কে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা জজ, জেলা যুগ্ম জজ, পুলিশ সুপার, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বসবাস। একাধিক সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজও ভাড়া বাসায় থাকেন এ এলাকায়। বেশ কয়েকজন বড় ব্যবসায়ীর বাসাও রয়েছে সড়কটিতে। পাশের সড়কে রয়েছে ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন না থাকায় রবিউল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির পাঁচতলা বাসার ময়লা পানি মাঝে মধ্যেই সড়কে চলে আসে। এই পানি সড়কে জমে দুর্গন্ধ ছড়ায়। নোংরা পানি মাড়িয়ে পথচারী থেকে শুরু করে সবাইকে কষ্ট করে চলাচল করতে হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘদিনের হলেও প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি ওই সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, শহরের চাকলাপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সড়কটি তারেক মোড় থেকে বের হয়ে নবগঙ্গা নদীতে মিশেছে। একটি সড়ক শাখা পাড়ার মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে চাকলাপাড়া হাটখোলা এলাকায় এসেছে। আরেকটি শাখা বিহারী পট্টি এলাকায় গিয়ে শেষ হয়েছে। সড়কগুলোর দুই পাশে অসংখ্য বহুতল ভবন রয়েছে।

সড়কটির দুই পাশে ঝিনাইদহ-২ আসনের এমপি তাহজীব আলম সিদ্দিকীর বাসভবন; জেলা জজ, জেলা যুগ্ম জজ ও পুলিশ সুপারের সরকারি বাসভবন; গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি বাসভবন, জেলা জজ ও পুলিশ সুপারের বাসভবন। পূর্ব পাশে রয়েছে একটি পাচতলা ভবন। যার মালিক শৈলকুপা উপজেলার পাচপাকিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, যিনি পেশায় ব্যবসায়ী। প্রায় ১২ বছর আগে তিনি বাড়িটি নির্মাণ করেছেন।

বাড়িটির সামনে দুইটি উন্মক্ত হাউজ রয়েছে। বাড়ির পানি নিষ্কাশনের সঠিক কোনো ব্যবস্থা নেই। যে কারণে সামনের ছোট ট্যাংক থেকে পানি উপচে সড়কে পড়ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সড়কটি দিয়ে চলাচল চলার সময় রবিউল ইসলামের বাসার সামনে এসেই হাত দিয়ে নাক চেপে ধরতে দুর্গন্ধে।

এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, তাদের এলাকায় পৌরসভার কোনো ড্রেন নেই। যে কারণে সবাই নিজেদের মতো করে পানি নিষ্কাশন করেন। তিনিও বাড়ির পেছনের অংশে বড় কুয়া তৈরি করেছেন। কিন্তু রবিউল ইসলাম সেটা না করে বাড়ির সামনে ছোট ছোট হাউজ তৈরি করে সেখানে পানি জমাচ্ছেন। প্রতিদিনই এই হাউজ ভেসে রাস্তায় দুর্গন্ধময় পানি প্রবেশ করছে।

পথচারী আমিরুল ইসলাম বলেন, গোটা বর্ষা মৌসুমে তাদের এ সড়ক দিয়ে কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে দিয়ে পায়ে হাঁটাও যায় না। তারপরও উপায় না পেয়ে নাক-মুখ চেপে ধরে চলাচল করতে হয়।

জেলা জজ কোর্টের নাজির শেখ মো. আব্দুল হালিম বলেন, সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কেই জেলা ও দায়রা জজসহ বেশ কয়েকটি সরকারি কর্মকর্তার বাসভবন। যারা বাসাবাড়ির ময়লা পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করছেন।

এ বিষয়ে ভবনের মালিক রবিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, তার ভবনে ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে সব ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া থাকে না। বর্তমানে ১০ জন ভাড়াটিয়া রয়েছেন।

তিনি বলেন, এলাকাটি ভিআইপি। যে কারণে তিনি ভবন নির্মানের সময় পায়খানার সেপটিক ট্যাংক ভবনের নিচে দিয়েছেন। ভবনের সামনে সড়কের পাশের থাকা দুইটি বড় হাউজে বাসার মানুষের গোসলের আর রান্নাঘরের পানি জমে থাকে। এ এলাকায় কোনো ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় তিনি গোসলের আর রান্নার পানি হাউজে দেন। কিন্তু বাসায় লোকসংখ্যা বেশি হওয়ায় দ্রুত হাউজটি ভরে যায়। তিনি পয়সা খরচ করে পৌরসভার গাড়িতে করে পানি অন্যত্র সরিয়ে ফেলেন। তবে মাঝে মধ্যে গাড়ি পেতে সমস্যা হলে হাউজ ভেসে পানি রাস্তায় চলে আসে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান কামাল উদ্দিন বলেন, ওই এলাকাতে পৌরসভার কোনো ড্রেন নেই। তবে তারা ড্রেন করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। খুব শিগগিরই ড্রেনটি নির্মাণ করা হবে।

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]