অবৈধ নিয়োগ: বেতনের ৬২ লাখ টাকা ফেরত দেননি ৯ শিক্ষক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ০৯:০৬ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০২১

জয়পুরহাটে চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ নয় শিক্ষকদের নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি। অডিটে তাদের নিয়োগ বিধিসম্মত নয় বলে প্রমাণিতও হয়। ফলে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ নয় শিক্ষকের বেতনের ৬২ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য বলে প্রতিবেদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরির্দশন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর। তবে অডিট প্রতিবেদনের প্রায় চার বছরেও এখনো সরকারি কোষাগারে কেউ টাকা ফেরত দেননি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০১২ সালের পর একাডেমিক নবায়ন স্বীকৃতি নেই। তারপরও এখন পর্যন্দ নানা অনিয়মের মধ্যেই বেতন-ভাতা তুলছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরির্দশন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর অডিট প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর জয়পুরহাট সদর উপজেলার চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরির্দশন করেন নিরীক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা পরিদর্শক টুটুল কুমার নাগ। পরে তিনি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনটি শিক্ষা অধিদপ্তরেরর মহাপরিচালক, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে পাঠানো হয়

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব, জাল সনদ ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিধিসম্মত না হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর কবির, সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহীন আখতার জাহান, সহকারী শিক্ষক মামুনুর রশিদ, সহকারী শিক্ষক (ধর্ম) শফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) দেওয়ান ওমর খৈয়ম, সহকারী শিক্ষক শাহজান আলী, সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম) পরিমল কুমার, সহকারী শিক্ষক হারুন অর রশিদ ও সহকারী শিক্ষিকা (কম্পিউটার) লতিফা খানমের নিয়োগ বিধিসম্মত নয়। ফলে তাদের গ্রহণ করা ৬২ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৯ টাকা ফেরতযোগ্য।

অডিট প্রতিবেদনটি ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর জমা দেওয়া হয়। এর প্রায় তিন বছর পর ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠি পেয়ে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক আলমগীর কবিরকে সাময়িক অব্যাহতি দেন বিদ্যালয়ের সদ্য মেয়াদোর্ত্তীণ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান সাজু।

অনিয়মের ব্যাপারে জানতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে গেলে শিক্ষকদের অনেকেই কথা বলতে রাজি হননি। সহকারী শিক্ষিকা (কম্পিউটার) লতিফা বলেন, ‘হেড স্যারের অনুমতি ছাড়া কোনো কথা বলবো না।’

অডিট প্রতিবেদনের সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আলমগীর কবির বলেন, যা বলার তা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে আমরা মিডিয়ার সামনে কথা বলতে চাচ্ছি না।

ম্যানেজিং কমিটির সদ্য সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আমি প্রধান শিক্ষককে নিয়ম মেনে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছি। তারপর আমার মেয়াদ শেষ হয়। এখনো প্রধান শিক্ষকসহ বাকি অবৈধ শিক্ষকরা চাকরিতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপক কুমার বনিক ও জেলা শিক্ষা অফিসার শাহাদুজ্জামান বলেন, অডিট প্রতিবেদন সঠিক হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো নির্দেশ পাওয়া যায়নি। নির্দেশ পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাশেদুজ্জামান/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]