উদ্ধারের নামে বিদ্যালয়ের জায়গায় বাড়ি বানাচ্ছেন সভাপতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২১

বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধারের নামে নিজেই দখলে নিয়ে বাড়ি বানাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। এছাড়া স্কুল মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকান পজিশনও নিজের দখলে নিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি বগুড়ার শেরপুর ছোনকা দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের।

অভিযুক্ত ওই সভাপতির নাম ফেরদৌস জামান মুকুল। তিনি স্থানীয় ভবানীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বেও আছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা-চন্ডিপুর এলাকায় ছোনকা দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবস্থান। এলাকার মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ১৯৫২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময় স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা স্কুলের নামে প্রায় পঞ্চাশ বিঘা জমি দান করেন। এরমধ্যে বিদ্যালয়সহ চারপাশেই আছে অন্তত ১৭ বিঘা জমি। যার সিংহভাগ জমিতেই গড়ে তোলা হয়েছে স্কুল কমপ্লেক্সে। যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ছাড়াও আছে মসজিদ, ছোনকা বাজার ও অভিজাত মার্কেট।

মাসিক ভাড়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে মার্কেটের দোকান পজিশন বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া ফাঁকা পড়ে থাকা কিছু জমি স্থানীয়দের মধ্যে ইজারা দেওয়া হয়। এভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির কাছ থেকে লিজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন তারা।

কিন্তু বিগত সময়ে দেওয়া লিজ বা ইজারা মানছেন না বিদ্যালয়টির বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও যুবলীগ নেতা ফেরদৌস জামান মুকুল। তাই তাদের উচ্ছেদ করে নিজেই জবরদখল করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন লিজ নেওয়া ব্যক্তিকে তাদের জায়গা থেকে উচ্ছেদ করে স্কুলের ওইসব জায়গা নিজেই দখলে নিয়েছেন। এমনকি জবরদখল করা জায়গার একটিতে বাড়ি বানাচ্ছেন ওই সভাপতি। আর তার এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম পাশে সাড়ে চার শতক জায়গার ওপর একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করছিলেন বেশকয়েকজন শ্রমিক। তাদের কেউ ইটের গাঁথুনি আবার কেউ সিমেন্ট-বালু মিশিয়ে মসলা তৈরির কাজে ব্যস্ত।

jagonews24

জানতে চাইলে সর্দার রাজমিস্ত্রি শফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়িটি করছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মকুল। তারই নির্দেশে এবং চুক্তিভিত্তিতে বাড়িটি তৈরি করা হচ্ছে। বিগত চার-পাঁচ দিন আগে থেকে এ কাজটি শুরু করেছি। কাজ শেষ করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এছাড়া আর কিছুই জানি না।

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবিব ও ভোলা সরকার নামের দুই ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের সভাপতি ও যুবলীগ নেতা ফেরদৌস জামান মুকুল যে জায়গায় বাড়িটি নির্মাণ করছেন সেটি তাদের লিজকৃত জায়গা। বিগত ১৫ বছর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নিয়ে জায়গাটি ভোগদখল করে আসছেন তারা। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ তাদের জায়গা সভাপতি নিজেই দখলে নিয়ে জোরপূর্বক বাড়ি তৈরি করছেন। যা দেখে আমরা হতবাক বনে গেছি।

তারা আরও বলেন, একই কায়দায় আঞ্জুয়ারা বেগমসহ একাধিক নারী-পুরুষের নামে বরাদ্দ দেওয়া স্কুল কমপ্লেক্সে মার্কেটের দোকান পজিশন থেকে তাদের উচ্ছেদ করে সভাপতি নিজেই জবরদখল করেছেন। সরকারি দলের ক্ষমতাধর ব্যক্তি দাবি করে যাচ্ছেতাই করছেন তিনি। তার অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারও সাহস নেই। বরং আমাদের মতো সবাই অসহায়। তাই সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছোনকা দ্বি-মুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ভবানীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস জামান মুকুল জাগো নিউজকে বলেন, আমি যা কিছু করছি তা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের ব্যাহত হওয়া জায়গা উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছি। কিন্তু দলীয় গ্রুপিং ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আমাকে ফাঁসাতে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিষ্ঠানের জায়গা ও দোকান পজিশন লিজ নিয়ে নিয়মিত ভাড়া দিচ্ছেন না তারা। তাই বকেয়া ভাড়া আদায়ের জন্য সভাপতি কৌশল অবলম্বন করেছেন। এছাড়া আর কোনো সমস্যা নেই। এরপরও কারও জায়গা বেদখল হলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ময়নুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা জবরদখল করে বাড়ি নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। এরপরও খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]