নৌকা না পেয়ে প্রিসাইডিং অফিসার!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ১১:১২ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০২১

রাত পোহালেই জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন। এতে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামী লীগের দুই নেতা প্রিসাইডিং অফিসার (ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোয়ালেরচর ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন উপজেলা তাঁতী লীগের সহ-সভাপতি এম.এ রুহুল আমীন এবং গোয়ালেরচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহনেওয়াজ সাজু মাস্টার।

এম.এ রুহুল আমীন সভারচর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এবং শাহনেওয়াজ সাজু স্থানীয় আহম্মেদপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে তারা দুজনই জেলা এবং ধানমন্ডির আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করে জমা দিয়েছিলেন।

ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন পেতে তারা ব্যানার-ফেস্টুনে প্রচার-প্রচারণাও করেছেন। করেছেন এলাকায় গণসংযোগও। কিন্তু শেষমেশ তারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হন। মনোনয়ন পান ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান সেখ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শাহনেওয়াজ সাজু মাস্টার প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গাইবান্ধা ইউনিয়নের গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এবং এম.এ রুহুল আমীন দায়িত্ব পেয়েছেন চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের ডিগ্রিচর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে।

গাইবান্ধা ইউপি নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, শাহনেওয়াজ সাজু মাস্টার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে কীভাবে প্রিসাইডিং অফিসার হন, তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

গাইবান্ধা সুরুজ্জাহান উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শাহনেওয়াজ সাজু মাস্টার বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে ইউপির চেয়ারম্যান হারুনর রশীদকে মনোনয়ন দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ আমাকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে।

চরগোয়ালিনী ইউপি নির্বাচনে ডিগ্রিচর উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার এম.এ রুহুল আমীন বলেন, আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলাম। কিন্তু দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আরও আগে জানালে ভালো হতো, তারপরও কেউ চাইলে কোনোকিছু করতে পারবে না।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. হোসনে আরা জাগো নিউজকে জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন কি না সেটা আমাদের জানা ছিলো না। আমরা তাদের দায়িত্ব দিয়েছি শিক্ষক হিসেবে। বিষয়টি আগে জানালে আমলে নেয়া যেত।

নাসিম উদ্দিন/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]