কুড়িগ্রামে অনলাইনে আইনি সেবা পাচ্ছেন চরাঞ্চলের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২১

কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতে প্রায় এক মাস আগে চালু হয়েছে অনলাইন আইনি তথ্যসেবা কেন্দ্র। জেলার সাড়ে ৪ শতাধিক চরাঞ্চলসহ অবহেলিত এলাকার মানুষকে আইনি সহায়তা দিতেই এ কেন্দ্রের যাত্রা। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’র এ সেবা কেন্দ্রের সুবিধা নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

তথ্য সেবা কেন্দ্র ও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নানান ধরনের সেবা নিতে আসেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। এমনই একজন কোহিনুর আক্তার। যৌতুক দিতে না পেরে নির্যাতন শেষে স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন তিনি। বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া কোহিনুরের কাছে পাঠানো হয়েছিল তালাকের কাগজও।

এ বিষয়ে কোহিনুর আক্তার জানান, ফ্রেন্ডশিপ অনলাইন আইনি তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরুর পর এখন সমাধানের জন্য রাজি হচ্ছে শশুরবাড়ির লোকজন। ফলে জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন কোহিনুর। তিনি জানান, এসব আইনি প্রক্রিয়ায় লাগেনি কোনো খরচও।

আরেক নারী কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার রহিমা বেগম। দীর্ঘদিন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উত্তরাধিকার সম্পত্তি উদ্ধারে। মামলার সুরাহা করতে এ পর্যন্ত পরিবর্তন করেছেন ৭ আইনজীবী। প্রতিপক্ষের প্রভাবে নিজের উকিলের কাছেও হেনস্তার শিকার হয়েছেন রহিমা। হতাশায় ডুবে থাকা রহিমা ফ্রেন্ডশিপ অনলাইন আইনি তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের সহযোগিতায় এখন অনেকটাই আশাবাদি।

সেবা কেন্দ্রের কর্তব্যরত প্যারালিগ্যাল এনামুল হক জানান, বিনা খরচে এবং অল্প সময়ে সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় বলে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন।

তিনি জানান, ফ্রেন্ডশিপ অনলাইন আইনি তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের সেবা সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে এখানকার অভিযোগের ৭০ ভাগই স্বামী-স্ত্রী বা পারিবারিক বিরোধ সংশ্লিষ্ট। বাকি সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, জমিজমা বা প্রতিবেশির বিরোধ।

সেবা কেন্দ্র সম্পর্কে এই প্যারালিগ্যাল বলেন, এখানে অভিযোগকারী আসলে প্রথমে একটি আবেদন ফর্মে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে আইনী কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় তারা ঘরে বসে মামলা বা সালিসের তারিখ পান এসএমএস’র মাধ্যমে।

ফ্রেন্ডশিপের সহকারী পরিচালক আহমেদ তৌফিকুর রহমান জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের অর্থনৈতিক সংকট এতটাই বেশি যে, পরিবারের খাবার যোগানো তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সেখানে আইনি সহায়তার জন্য খরচ করা তাদের পক্ষে খুবই কঠিন। প্রান্তিক এলাকার মানুষের মাঝে রয়েছে শিক্ষার অভাব। ঠিকমতো যোগাযোগের অভাবে তারা প্রায়ই দালাল বা খারাপ লোকের খপ্পরে পড়ে যায়। প্রত্যন্ত এলাকার বিশেষ করে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা উপযুক্ত যোগাযোগ এবং সক্ষমতার অভাবে জেলা আদালতে যেতেও উৎসাহিত হন না। ফলে ন্যায়বিচার বা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন অনেকে।

কুড়িগ্রাম ‘অনলাইন আইনি তথ্য ও সেবা কেন্দ্র’ চালু হওয়ায় প্রান্তিক ও সুবিধা বঞ্চিতদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করছেন জেলার আদালত সংশ্লিষ্টরা।

আদালতে আইনি সেবা প্রাপ্তিতে ফ্রেন্ডশিপের এমন উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’র পরিচালক, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং কুড়িগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যানসহ অনেকে।

মো. মাসুদ রানা/এমএইচআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]