একটি ভোটও পাননি নজরুল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২১

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে একটি ভোটও পাননি মেম্বার প্রার্থী নজরুল ইসলাম। তিনি টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তার ফলাফলপত্রে ভোটের সংখ্যা শূন্য।

শূন্য ভোট পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। লজ্জায় এবং ক্ষোভে ফের ভোট গণনার আবেদন জানিয়েছেন ওই মেম্বার প্রার্থী।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর রামখানাসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ওই ইউনিয়নে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য পদে টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নাখারগঞ্জ পশ্চিম রামখানা দেওয়ানটারী গ্রামের ইজ্জত উল্ল্যার ছেলে নজরুল ইসলাম। প্রতীক পাওয়ার পর বিজয়ী হতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণাও চালান।

সবার মতো দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে প্রতীক ও প্রার্থীর প্রচারণা। পোস্টার লাগানো হয় ওয়ার্ডের সর্বত্রই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। সবশেষে ভোটের দিন কেন্দ্রে টিউবওয়েল প্রতীকের একজন এজেন্টও ছিল না।

অথচ রোববার দিনশেষে গণনা করে দেখা যায় তিনি একটি ভোটও পাননি। তাহলে তিনি, তার স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য, আত্মীয়স্বজন, তার শুভাকাঙ্ক্ষী, কর্মী-সমর্থক ও এজেন্ট কেউই কী তাকে ভোট দেয়নি। এ নিয়ে বিস্তর আলোচনার সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে প্রার্থীর নিজের ভোটটি কোথায় গেল?

নজরুল ইসলাম টিউবওয়েল প্রতীকে কোনো ভোট না পেলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরজামাল শেখ ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৭১৬, ফজলে রহমান বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ ভোট, সফিকুল ইসলাম তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৭ ভোট।

ভোটের এ ফলাফলে কোনোভাবে হিসেব মিলাতে পারছেন না প্রার্থী নজরুল ইসলাম নিজেও।

তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আমি মর্মাহত। অপ্রত্যাশিত এ ফলাফল শোনার পরে আমি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছি। লজ্জায় বাইরে যেতে মন চায় না। কাল থেকে নিজেকে আমি প্রায় ঘরবন্দি করে ফেলেছি। ভোটের কথা মনে উঠলেই হাউমাউ করে আমার কান্না আসছে।

যদি কর্মী-সমর্থকরা আমাকে ধোঁকা দেয় তারপরেও আমি, আমার স্ত্রী মেহরা খাতুন, বড় ছেলে মফিজুল ইসলাম, তার স্ত্রী কল্পনা খাতুন, মেজ ছেলে এনামুল হক, তার স্ত্রী ফরিদা বেগমসহ রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজনরা ভোট দিলে অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ ভোট পাওয়ার কথা। সেখানে শূন্য ভোট হয় কীভাবে। আমি এটা মেনে নিতে পরছি না। এ ফলাফলে আমি পুরোপুরি বেইজ্জত হয়ে গেছি। তাই রাতেই আমি সংশ্লিষ্ট অফিসে ভোট আবারও গণনার আবেদন করেছি।

আইনি কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আইনি লড়াইয়ে যাবো। তবে আমার টাকা পয়সা নেই এবং লোকজনের অভাব।

তবে এ বিষয়ে রামখানা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও নৌকার পরাজিত প্রার্থী আব্দুল আলীম সরকার অভিযোগ করে বলেন, টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেম্বার প্রার্থী নজরুল ইসলাম তার পরিবারের বাইরে একটি ভোটও পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। তিনি একজন প্রার্থীর বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল কেউ যেন তাকে টাকা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, আমার ধারণা হচ্ছে, সদস্য প্রার্থী নজরুলসহ তার পুরো পরিবার ভোট দিয়েছেন তারই মনোনীত প্রার্থী একই ওয়ার্ড সদস্য পদে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী নুরজামালকে।

আবেদন পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে এটি আইনিভাবে মোকাবিলার জন্য তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন।

এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।