কান পরিষ্কার করার পেশায় ৪০ বছর আঁকড়ে আছেন সৈয়দ আলী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

ফরিদপুরের নগরকান্দার বাসিন্দা সৈয়দ আলী ভূঁইয়া। পেশা মানুষের কান পরিষ্কার করা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে মানুষের কান পরিষ্কার করেন তিনি। এ থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে সংসার। এভাবে ৪০ বছর পেশাটিকে আঁকড়ে ধরে আছেন সৈয়দ আলী।

উপজেলার কোদালিয়া শহীদনগর ইউনিয়নের মাঠবালিয়া গ্রামের মৃত বারেক ভূঁইয়ার ছেলে সৈয়দ আলী ভূঁইয়া। অভাবের সংসারে লেখাপড়া সেভাবে করতে পারেননি। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে জীবিকার সন্ধানে নামতে হয় তাকে। প্রথমে তিনি গ্রামে ঘুরে ঘুরে চুড়ি-ফিতা বিক্রি শুরু করেন। একপর্যায়ে রংপুর জেলায় চলে যান।

১৯৭৯ সালে সেখানে আব্দুল মজিদ মিয়া নামের এক কলেজ শিক্ষকের কাছ থেকে কান পরিষ্কারের প্রশিক্ষণ নেন সৈয়দ আলী। সেখানে তিন বছর প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেই শুরু করেন কান পরিষ্কার করার কাজ। সেই থেকে শুরু। আজ পর্যন্ত এই পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন সৈয়দ আলী। প্রায় ২০ বছর ধরে নিজ এলাকায় এসে মানুষের কান পরিষ্কারের কাজ করছেন।

মানুষের কান পরিষ্কার করে প্রতিদিন তিন থেকে চারশ টাকা আয় হয়। জমিজমা বলতে আছে শুধু আড়াই শতাংশের বাড়িটুকু। সেখানে ছোট একটি দোচালা টিনের ঘরে তার বসবাস। চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ছেলে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেছে। ছোট ছেলে বিপ্লব ভূঁইয়া স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।

সৈয়দ আলী বলেন, আমি প্রায় ১০ বছর ধরে হার্টের রোগে ভুগছি। আমাকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ টাকার ওষুধ খেতে হয়। মানুষের কান পরিষ্কার করে যা আয় হয় তা দিয়ে ঠিকমতো সংসারই চালাতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। আমি খুবই কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। আমার একটি সরকারি ঘর প্রয়োজন।

এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]