‘স্বাধীনতা কোনো দিন পুরান হতে পারে না’

নাসিম উদ্দিন নাসিম উদ্দিন , জেলা প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশিত: ০৪:০৩ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২১

বীর প্রতীক আনিসুর রহমান ১৯৪৮ সালের ১ জুন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের স্থল উত্তর-পূর্ব পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে ছিলেন অত্যন্ত চঞ্চল এবং সাহসী। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে ছাত্ররাজনীতি শুরু করেন। ছাত্রজীবন শেষের আগেই ১৯৬৯ সালে বিয়ে করেন। বিয়ের এক বছর পর শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। দেশকে স্বাধীন করার আশায় স্ত্রীকে রেখেই যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের সময় কোম্পানির কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে ১১ নম্বর সেক্টরে ছিলেন। যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করে। তার বীরত্ব গাঁথা সেসব দিনের কথা উঠে এসেছে জাগো নিউজের সাক্ষাৎকারে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জামালপুর জেলা প্রতিনিধি মো. নাসিম উদ্দিন

জাগো নিউজ: কখন যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন?

আনিসুর রহমান: তখন বয়স ২৩ বছর। পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের অধিকার বঞ্চিতসহ হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও নানা ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ভাষণে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তার বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হলাম, মনে মনে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠলো। মূলত এরপরই যুদ্ধে যাওয়া।

জাগো নিউজ: শুরুর দিকের মনোভাব কেমন ছিল বা কারও দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছিলেন কি না?

আনিসুর রহমান: কারও দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হইনি। বরং দেশপ্রেম, দেশকে স্বাধীন করার মনোভাব ছিল প্রচণ্ড। বিজয়েরবেশেই ফিরবো এই ছিল সংকল্প।

‘স্বাধীনতা কোনো দিন পুরান হতে পারে না’

জাগো নিউজ: তখনকার প্রতিটি মুহূর্তই ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এমন কোনো ঘটনা যা আপনার মনকে আজও শিহরিত করে?

আনিসুর রহমান: তখন মে কিংবা জুন মাসের মাঝামাঝি হবে। খবর পেলাম সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের জগন্নাথগঞ্জঘাটে রহিমা নামের এক মেয়েকে রাজাকার আলবদর বাহিনী ধরে নিয়ে বাঙ্কারে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে। সহযোদ্ধাদের নিয়ে ক্রলিং করতে করতে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। উদ্ধারের পর মেয়েটির বিভৎস চেহারা দেখে আঁতকে উঠি এবং তখনই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলাম দেশকে স্বাধীন করার আগ পর্যন্ত থামবো না।

জাগো নিউজ: বিজয়ের প্রাক্কালে আপনি যেখানে দায়িত্ব পালন করতেন সেখানকার অবস্থা কেমন ছিল?

আনিসুর রহমান: বিজয়ের উল্লাসে আমরা তখন উৎফুল্ল। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর একটা স্বাধীন ভূখণ্ড পাচ্ছি সেই আনন্দ বলে বোঝানোর নয়।

জাগো নিউজ: বিজয়ের ৫০ বছর পর দেশকে নিয়ে কিছু বলুন?

আনিসুর রহমান: স্বাধীনতা কোনো দিন পুরান হতে পারে না। স্বাধীন-স্বাধীনই। আজ আমাদের মাতৃভূমি স্বাধীন হয়েছে, স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমাদের যা কিছু করার দরকার-দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের তাই করতে হবে।

জাগো নিউজ: ভবিষৎ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?

আনিসুর রহমান: তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুরোধ, আমাদের উচিত হবে এ দেশকে ভালোবাসা। যে যার অবস্থান থেকে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করা। এটা আমাদের সোনার বাংলা-এই বাংলাকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে হবে। একে লালন করতে হবে, এর প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। বাংলা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে। মনে রাখতে দেশের চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি নেই। এমনকি দেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ না করি এবং সরকারকে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করি।

এএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]