আ’লীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি পেলেন নৌকার মনোনয়ন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুটি হত্যা মামলার আসামি সরকার সাফায়েত উল্লাহকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মানিক হত্যার ঘটনায় ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর করা মামলায় বর্তমান চেয়ারম্যান সাফায়েতকে প্রধান আসামি করা হয়। এ মামলায় চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন কিশোরগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক। এছাড়া ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি রসুলপুর গ্রামের মোবারক হত্যা মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়।

এদিকে, চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে এবারও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। ২৩ নভেম্বের আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার মনোনয়নের বিষয়টি জানানো হয়। ২৫ নভেম্বর তিনি চেয়ারম্যান পদে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণাও। যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

নিহত আওয়ামী লীগ নেতা মানিক ভূঁইয়ার ছেলে ও মামলার বাদী মো. সুজন মিয়া বলেন, আমার বাবা হত্যার প্রধান আসামি চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহ। একজন খুনিকে কীভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হলো তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে কিন্তু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। তিনি প্রকাশ্যে এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাদেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, নিহত মানিক আমার চাচাত ভাই। তার খুনের মামলায় সাফায়েত প্রধান আসামি। অথচ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড তাকে মনোনয়ন দিলো। আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ছিলাম। তৃণমূলের ভোটে আমি প্রথম হয়েছি কিন্তু মনোনয়ন দিলো ডাবল খুনের আসামিকে।

ভৈরব থানার নব যোগদানকৃত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান সাফায়েত উল্লাহর গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি আমি জানি না। থানায় যোগদান করেছি মাত্র চারদিন হলো। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নেবো। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছাতে কিছু প্রক্রিয়া আছে, এতে কয়েকদিন সময় লাগে। থানায় যদি পরোয়ানা এসে থাকে তবে আইনগতভাবে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সরকার সাফায়েত উল্লাহ বলেন, ষড়যন্ত্র করে আমাকে আওয়ামী লীগ নেতাসহ দুটি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার একটিতে জামিন নিয়েছি। আরেক মামলায় নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকায় আদালতে হাজিরর হতে পারিনি। তবে নির্বাচন শেষে আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেবো।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় আমার বিশাল জনপ্রিয়তা দেখে প্রতিপক্ষরা নানাভাবে আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার চালাচ্ছে। তারা কীভাবে নির্বাচনে পরাজিত করতে আমার বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা জাগো নিউজকে বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলে নির্বাচনে প্রার্থিতায় কোনো বাধা নেই। জেলে থেকেও অনেকে নির্বাচন করে। তবে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না।

এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]