পেটে কাঁচি রেখে সেলাইয়ের ঘটনা তদন্তে কমিটি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১০:০২ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০২১

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলিমুজ্জামানের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন পেটের মধ্যে কাঁচি বয়ে বেড়ানো মনিরা খাতুন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপে শনিবার মনিরার পেট থেকে অপারেশন করে কাঁচিটি বের করা হয়। বর্তমানে মনিরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এ ঘটনায় রোববার (১২ ডিসেম্বর) তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হাসানকে এ তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। বাকি দুই সদস্য হলেন- সহযোগী অধ্যাপক (গাইনি) ডা. কানিজ ফাতেমা ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুজ্জামান।

হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ওই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। মনিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার অবস্থা উন্নতির দিকে। রোববার বিকেলে ফরিদপুরের এডিএম লিটন মিয়া ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মনিরাকে দেখেন এবং তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেন।

ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল জাগো নিউজকে বলেন, রোগীর অভিভাবকরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে বিস্তারিত জানান। এসপি নির্দেশে রোগী ও তার অভিভাবকদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে রোগী মনিরাকে হাসপাতালের সার্জিক্যাল বিভাগে ভর্তি করা হয়। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) অপারেশন করে পেট থেকে কাঁচিটি বের করা হয়

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন বলেন, এ ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে এ অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটেছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলিমুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, রোগীর পরিবারটি অসহায়। মেয়েটি দেড় বছর ধরে এ যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। বিষয়টি জানার পর আমার দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। আমি নিজেও তার জন্য দোয়া করেছি। নিয়মিত খোঁজ-খবর রেখেছি।
সৃষ্টিকর্তা তার প্রতি সদয় হয়েছেন এবং তার দয়ায় মেয়েটি আজ নতুন জীবন পেয়েছে। আগামীতেও তার সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করি। রোগী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, রোববার জেলা আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় এ ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা নিবিড়ভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এ ব্যাপারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন কে বি নয়ন/এসজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।