নববধূ রেখে নিখোঁজ যুবক, ১০ দিন পর ঢাকায় মরদেহ উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ১২:৪৪ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২২

লালমনিরহাটে বিয়ের তিনদিন পর নববধূকে রেখে নিখোঁজ রুবেল মিয়ার (২৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের ১০ দিন পর ঢাকার একটি নবনির্মিত ভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। নিহত রুবেল মিয়া লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের খলাইঘাট গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ এলাকা লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের একটি কবরস্থানে রুবেল মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি রুবেল নিখোঁজ হন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২ জানুয়ারি একই এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে সার্জিয়া খাতুনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে রুবেল মিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের তিনদিন পর হঠাৎ করে নিখোঁজ হন রুবেল। এর পর থেকে তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ওইদিনই রুবেল মিয়ার বাবা লালমনিরহাট সদর থানায় ছেলে নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এদিকে স্থানীয় মাহফুজার রহমান নামে এক যুবক তার ফেসবুক আইডিতে রুবেল মিয়ার ছবিসহ নিখোঁজের একটি স্টাটাস দেন। স্টাটাসে রুবেলের খোঁজ পেতে মোবাইল নম্বরও উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকায় উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় পেতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ লালমনিরহাটের সেই যুবকের দেওয়া স্টাটাসে উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে ফোন করে নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ খবর নেন। এরপর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়। পরে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে রুবেলের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

রুবেল মিয়ার স্ত্রী সার্জিয়া খাতুন জানান, বিয়ের তিনদিন পর অর্থাৎ ৫ জানুয়ারি আমার বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি (রুবেল) বাজারে যাওয়ার কথা বলে আর ফেরেননি। ফোনও বন্ধ ছিল। আজ ১০ দিন পর তার মরদেহ পেলাম।

রুবেলের বাবা জানান, রুবেল আমার একমাত্র ছেলে। তাই খুব ধুমধাম করে ছেলের বিয়ে দিয়েছি। এই বিয়ের কারণেই তার ছেলেকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন মোফা জানান, বিয়ে সম্পর্কিত ঘটনার কারণেই হয়তো এই হত্যাকাণ্ড হতে পারে।

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ আলম জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। সেই ভবনের দারোয়ানকে গ্রেফতার করেছে বলে জানতে পেরেছি।

মো. রবিউল হাসান/কেএসআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]