নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে মারপিট-শ্লীলতাহানি ইউপি চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:১৮ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাইমা আক্তারকে মারপিট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দোতলায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মারধরের শিকার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাইমা আক্তার থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বিহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলামসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে প্রকল্প বিভাজনের জন্য উপজেলা পরিষদে স্টেট রিলিফ (টিআর) এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা আক্তারও উপস্থিত হন। এসময় প্রকল্প নিয়ে কথাবার্তা শুরু হলে ফাইমার আক্তারের সঙ্গে বিহার ইউপির চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলামের বাগবিতণ্ডা হয়। সভা শেষে ভাইস চেয়ারম্যান প্রকল্প কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন।

এক পর্যায়ে তিনি শ্লীলতাহানি করেন। একসময় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার সঙ্গী পলাশসহ আরও ৪-৫ জন ছিলেন। তারা অস্ত্র বের করে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর বিকেল ৫টা থেকে ইউপি চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে উপজেলা সদরে অবস্থিত থানার গেটে অবস্থান নেন ভাইস চেয়ারম্যান ফাইমা আক্তার। বিয়ষটি জানার পর রাত পোনে ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম সম্পা এসে তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এর আগে রাতে শিবগঞ্জ থানায় ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন ফাইমা।

মারধরের শিকার ভাইস চেয়ারম্যান ফাইমা আক্তার বলেন, ‘মহিদুল ইসলাম ও তার লোকজন আমাকে মারপিট করে শ্লীলতাহানি করেছে। এখন তারা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে কুলসুম সম্পা বলেন, আমার কক্ষের বাইরে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি আমরা দেখছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম বলেন, স্টেট রিলিফ-কাবিখার প্রকল্প বিভাজন সভায় ভাইস চেয়ারম্যান ফাইমা ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছে চাঁদা হিসেবে অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করেন। ইউপি চেয়ারম্যানরা তা দিতে অস্বীকার করায় তিনি সবাইকে গালিগালাজ করেন। এতে করে চেয়ারম্যানদের সম্মানহানি হওয়ায় তাকে ধমক দেওয়া হয়েছে। মারপিট বা শ্লীলতাহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।

এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]