যমুনায় নাব্য সংকট, পারাপারে বিপাকে দু’পাড়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

যমুনা নদীতে নাব্য সংকটের মুখে বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি ঘাট থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে নৌযান চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন দুপাড়ের মানুষ। একইসঙ্গে পণ্য ও যাত্রী পারাপারে বেকায়দায় পড়েছেন ঘাটের ইজারাদাররাও। ইজারার টাকা ওঠা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন তারা।

এলাকায় ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি ঘাট থেকে জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে পারাপার চলে। এর মধ্যে রয়েছে যমুনার বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং পাশের জামালপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার জামতৈল, ধারা বর্ষা, মানিক দাইর, ডাকাত মারা, বোহাইল, মাঝিরা, শংকরপুর, নাটুয়ার পাড়া, তারাকান্দীসহ প্রায় ২০টি চরাঞ্চল।

এছাড়া যমুনার পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের মানুষের চলাচলেরও প্রধান পথ ওই দুটি ঘাট। জেলা পরিষদ থেকে বার্ষিক ইজারা নিয়ে ইজারাদাররা নৌকায় লোকজন পারাপার করেন। এছাড়া ফার্টিলাইজারের সার সহজে এবং কম খরচে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পরিবহন হয় এ দুটি ঘাট দিয়ে।

উপজেলার একাধিক সার ডিলার বলেন, যমুনা সার কারখানার বরাদ্দের সার আমরা নদী পথেই নিয়ে আসি। এতে খরচ ও সময় দুটিই কম হয়। সামনে ইরি-বোরো চাষ হবে। ঘাট অচল হলে শতাধিক কিলোমিটার ঘুরে ট্রাকে আনতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটিই বাড়বে।

jagonews24

শহড়াবাড়ি ঘাটে কথা হয় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শংকরপুর চরের যাত্রী মকবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঘাট থেকে দুই দফা নৌকা বদল করে এবং বালির পথ হেঁটে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে অনেক পথ ঘুরে আসতে হলো। চর জেগে ওঠায় এবং ঘাটের পানি কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

শহড়াবাড়ি ঘাটের ইজারাদার হযতর আলী জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় ২০ লাখ টাকায় এক বছরের জন্য ইজারা নিয়েছি। ঘাটে পানি কমে যাওয়া এবং চর জেগে ওঠায় দুদফা নৌকা বদল করে যাত্রীদের পৌঁছে দিতে হচ্ছে। অনেক পথ ঘুরে অধিক সময়ে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে। প্রায় অচল হওয়ার পথে ঘাটটি। এতেও ইজারার টাকা উঠবে কি না সন্দেহ।

তিনি আরও বলেন, যমুনার পূর্বপাড়ে যমুনা সার কারখানা। সেখান থেকে নৌকায় কম খরচ এবং কম সময়ে শহড়াবাড়ি ঘাটে আনা হয়। সেখান থেকে ট্রাকযোগে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছানো হয়। এছাড়া খুচরা ব্যবসায়ীরা এ ঘাট দিয়ে সার আনা-নেওয়া করে থাকে। এখন সার পারাপার বন্ধ রয়েছে। তাই দ্রুত ঘাট সংস্কার ও যাতায়াতের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিবারন চক্রবর্তী জাগো নিউজকে বলেন, নাব্য সংকটের মুখে নৌযান চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ঘাটে পানি কমে যাওয়া এবং নদীতে চর জেগে ওঠায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষার আগে নদীর পানি বাড়ার সম্ভাবনা কম।

এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]